যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দূষিত শহর লুইজিয়ানা। এ শহরেরই বাসিন্দা মেরি হ্যাম্পটন। তিনি শহরের যেদিকেই তাকান সেখানেই ভূত দেখতে পান। এই ভূতের নাম উন্নয়নের কারণে ক্যানসারে আক্রান্ত মৃতদের স্মৃতি। মেরির এক ভাই মরেছে ক্যানসারে। অন্য এক ভাইয়ের স্ত্রীও ক্যানসারে মারা গেছে।
লুইজিয়ানার এমন একটি পরিবার পাওয়া যাবে না যে পরিবারের একজন সদস্য ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মরেনি। স্থানীয়না নিউ অরলিন্স আর বাটন রৌগের মধ্যবর্তী লুইজিয়ানাকে ‘ক্যানসার ভ্যালি’ নামে চেনে। শহরের এই ক্যানসারের কারণ অন্যতম একাধিক কেমিক্যাল প্ল্যান্ট। মিসিসিপি নদীতে ওই প্ল্যান্টগুলো থেকে ফেলা রাসায়নিক বর্জ্যরে কারণে ক্যানসারের সৃষ্টি হচ্ছে বলে অনেক আগেই স্থানীয় পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে দেয়। কিন্তু রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ২০১৫ সালে সরকারি এক রিপোর্টে লুইজিয়ানার বাতাস বিষাক্ত হয়ে যাওয়ার খবর আসে। আমেরিকার পরিবেশবাদী সংস্থা এপিএ জানায়, বাতাসে বিষক্রিয়া এবং নদীর পানির দূষণের কারণে ১০ হাজারের বেশি মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলের তুলনায় লুইজিয়ানায় ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি ৫০ গুণ বেশি।
হ্যাম্পটন বলেন, ‘মনে হয় আমাদের নিয়ে কেউ ভাবে না। ব্যাপারটা এমন যে, আমাদের এভাবেই জীবনযাপন করতে হবে। কী করতে পারি আমরা? এখানে থাকব, অসুস্থ হব এবং মারা যাব?’
১৯৬৮ সালে প্রথম দুপন্ট নামে একটি কেমিক্যাল কারখানা শুরু হয় লুইজিয়ানায়। ওই কারখানা থেকেই প্রথমে শহরের বাতাসে ক্লোরোপ্রেন ছড়াতে শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা শুরুর দিকে প্রশাসনকে কেমিক্যাল কারাখানা থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ ও ভারী বাতাস নিয়ে অভিযোগ করে। কিন্তু এ নিয়ে প্রশাসন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে ইপিএ ২০১৫ সালে রিপোর্ট করলে সরকারের টনক নড়ে। ততদিনে ওই কোম্পানিটির মালিকানা বদল হয়ে জাপানি কোম্পানি দেনকার হাতে চলে যায়।
পরিবেশবাদীরা মামলা করলেও দেনকার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। কারণ শহরে এই কারখানা চালাতে তাদের কাছে বৈধ অনুমতিপত্র আছে। ২০১৮ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়, দেনকা একটি কারখানা থেকে বর্তমানে ছয়টি নতুন কারখানা খুলেছে শহরে।
