ছাত্র হলে প্রাধ্যক্ষ নেই, আছে সমস্যা

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ০১:০০ এএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) তিন আবাসিক ছাত্র হলে মেয়াদ শেষ হলেও নতুন প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে যথাযথ তদারকির অভাবে বেহাল হলগুলো। ক্যান্টিন-ডাইনিংয়ে নি¤œমানের খাবার পরিবেশন, পানি সংকট, অপরিচ্ছন্নতা, চুরি ও বহিরাগতদের উৎপাতের কোনো সমাধান নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হল প্রাধ্যক্ষের মেয়াদ শেষ হয়েছে চার বছর আগে। আর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হল প্রাধ্যক্ষের মেয়াদ শেষের এক বছর পার হয়েছে। প্রশাসন নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় প্রাধ্যক্ষরা তাদের কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নবাব সিরাজ-উদ-দোলা, শেরেবাংলা ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের করিডোর, সিঁড়ির পাশে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। নিয়মিত পানি সংকট ও পরিষ্কারের অভাবে বাথরুম থেকে ছড়ায় দুর্গন্ধ। হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উচ্চমূল্যে পরিবেশন করা হচ্ছে নি¤œমানের খাবার। নিরাপত্তাকর্মী ও তদারকির অভাবে হলগুলোতে চুরি ও সিট বাণিজ্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসনের তদারকির অভাবে সিরাজ-উদ-দৌলা হলের সিঁড়ি ও হলগুলোর ছাদে নিয়মিত বসছে গাঁজার আসর।

মাস্টার্সে অধ্যয়নরত নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মশিউর রহমান বলেন, ‘প্রভোস্ট স্যারকে শুধু অনুষ্ঠানের টোকেন বিক্রয়ের দিন হলে দেখা যায়।’ শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় বর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী রনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আসার পর হলে প্রভোস্ট স্যারকে কখনো দেখিনি।’

এ বিষয়ে শেরেবাংলা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক মো. হাসানুজ্জামান আকন্দ সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো বলতে রাজি হননি। তবে হলে অনুপস্থিতির কথা স্বীকার করে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসহাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজের ব্যস্ততার কারণে আমি হলে যেতে পারি না। তবে এখন থেকে সপ্তাহে অন্তত দুদিন যাব এবং সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম বলেন, ‘আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্দিষ্ট পদে থাকতে পারবেন। তবে খুব দ্রুত নতুন নিয়োগের ব্যবস্থা করব।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত