পাকিস্তানে ব্লাসফেমি আইনে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাওয়া খ্রিস্টান নারী আসিয়া বিবি দেশ ছেড়েছেন। ইতিমধ্যে তিনি কানাডা পৌঁছেছেন বলে তার আইনজীবী সাইফুল মালুক নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার দিনের শেষে ফ্লাইট ছাড়ার আগে আসিয়া বিবির পরিবার জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে জানান, তাদের গোপনে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়৷ স্বামী আশিক মাসিহও রয়েছেন আসিয়ার সঙ্গে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে লাহোরের নিকটস্থ এক এলাকায় মাঠে কাজ করার সময় মুসলিম নারীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মহানবীকে (সা.) নিয়ে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ ওঠে এ খ্রিস্টান নারীর বিরুদ্ধে৷
ওই অভিযোগে ব্লাসফেমি আইনের আওতায় পরের বছর তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়৷ এরপর দীর্ঘ আট বছর কারাগারেই কাটান চার সন্তানের এ জননীকে।
এরপর ছয়মাস আগে সুপ্রিম কোর্ট আসিয়া বিবিকে মুক্তির রায় দেয়। এতে কট্টরপন্থী ইসলামপন্থীরা তাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং দেশব্যাপী বিক্ষোভ শুরু করে। ফলে করাচিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয় আসিয়াকে।
সে সময় তেহরিক-ই-লাব্বাইক বা টিএলপি নামের একটি দল সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করে৷ সেইসময় পাকিস্তান তিনদিনের জন্য অচল হয়ে পড়েছিল৷
এরপর সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তির পর বিক্ষোভ থেকে সরে আসে টিএলপি। চুক্তি অনুসারে দলটি আসিয়া বিবিকে ‘এক্সিট কন্ট্রোল লিস্ট’ বা ইসিএল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়৷ উল্লেখ্য, ইসিএল তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম রাখা হয়, যাদের ওপর পাকিস্তান ছাড়ার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়৷
তবে আসিয়ার গোপনে দেশ ছাড়ার ঘটনায় এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি টিএলপি।
