তেঁতুলিয়ায় নদী দখল করে পাথর উত্তোলন

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১০:১১ পিএম

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কয়েকটি নদী দখল করে পাথর উত্তোলনে মেতেছে একটি প্রভাবশালী মহল। এই মহলে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি, শিক্ষক, পাথর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ জড়িত রয়েছেন। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে অবাধে তোলা হচ্ছে পাথর। এমনকি এই পাথর উত্তোলনেও নিষিদ্ধ ড্রেজার (বোমা) মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। তেঁতুলিয়ার করতোয়া, ডাহুক ও সাও নদী এখন ‘পাথরখেকোদের থাবার শিকারে’ পরিণত হয়েছে।

নদী দখল ও দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার দাবিতে গত ১৯ এপ্রিল পরিবেশবাদী যুব সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েস’ নামে একটি সংগঠন এবং পরিবেশ আন্দোলন, পঞ্চগড় নামে একটি সংগঠন ‘ড্রেজার হটাও, পঞ্চগড় বাঁচাও’ সেøাগান নিয়ে গত ৩১ মার্চ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু বন্ধ হয়নি ড্রেজার মেশিনে পাথর উত্তোলন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, তেঁতুলিয়ার শালবাহান ইউনিয়নের বালাবাড়ি এলাকায় ডাহুক নদীতে অবাধে পাথর উত্তোলন চলছে। নদীটি চেনা এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কমপক্ষে ৩০টি স্থানে বড় বড় গর্ত করে পুরো নদীতে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতিটি গর্ত ৩০ থেকে ৪০ মিটার পর্যন্ত গভীর। বালুর স্তূপে ঢাকা পড়েছে নদীর গতিপ্রবাহ। পাথর উত্তোলনে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ড্রেজার (বোমা) মেশিন।

স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে সাময়িক বন্ধ থাকে পাথর উত্তোলন। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই আবার শুরু হয় পাথর উত্তোলন। এই প্রভাবশালী মহলে রয়েছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, পাথর ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানিউল ফেরদৌসের চেষ্টায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন কিছুটা কমেছিল। এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে নিয়মিত মামলা ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু জামিনে বেরিয়ে এসে আবার শুরু করে পাথর উত্তোলন।

তেঁতুলিয়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক হাফিজ উদ্দীন জানান, ‘ডাহুক নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে এর গতিপ্রবাহই বন্ধ হয়ে গেছে। প্রশাসন শক্ত পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এ নদী।’

করতোয়া ও সাও নদীরও অবস্থা একই। তেঁতুলিয়ার ভজনপুর এলাকায় করতোয়া নদীর প্রবাহ বন্ধ করে পাথর উত্তোলন করছেন প্রভাবশালীরা। এ ছাড়া শুকানি এলাকায় সাও নদী থেকে একইভাবে নদী বন্ধ করে পাথর তুলছেন তারা।

জেলা পরিবেশ পরিষদের সভাপতি তৌহিদুল বারী বাবু জানান, ‘নদীর নাব্য রক্ষার বদলে উল্টো তার স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে একসময় নদীগুলো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। পরিবেশে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।’

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানিউল ফেরদৌস জানান, ‘কিছু লোকজন নদী দখল করে পাথর উত্তোলন করছে। তারা একেবারে বেপরোয়া হয়ে গেছে। নদী দখল করে পাথর উত্তোলন করায় গত বছর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয়জনকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নদীগুলো রক্ষা করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ এলাকায় আমরা অবৈধভাবে পাথর তুলতে দেব না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত