নতুন ফিলিস্তিন গড়ার চুক্তি ফাঁস

আপডেট : ০৮ মে ২০১৯, ১০:৫৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যুতে হওয়া গোপন চুক্তি সম্প্রতি ফাঁস করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হায়ুম। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই নথিগুলো ফাঁস হয়েছে বলে দাবি সংবাদমাধ্যমটির।

কথা ছিল মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের রমজানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির কিছু অংশ ঘোষণা আকারে প্রকাশ করা হবে। কিন্তু তার আগেই দুই নেতার মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ শীর্ষক চুক্তিটি ফাঁস হয়ে যায়।

ফিলিস্তিন নামে কোনো দেশ না থাকার পক্ষে সম্মত হন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। চুক্তি অনুসারে ফিলিস্তিনের নাম হবে নিউ প্যালেস্টাইন। নতুন এই নিউ প্যালেস্টাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে গাজা উপত্যকা, জিহুদিয়া পার্বত্য এলাকা এবং পশ্চিম তীরের সামারিয়া এলাকা। পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলোর ওপর সার্বভৌমত্ব থাকবে ইসরায়েলের হাতে।

এছাড়া জেরুজালেম নগরীকে ভাগ না করে এটা হবে নিউ প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েলের উভয়ের রাজধানী। নগরীর আরব বাসিন্দারা নিউ প্যালেস্টাইনের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। আর ইহুদিরা ইসরায়েলি নাগরিক হিসেবে সেখানে বসবাস করবে। ইহুদিরা আরবদের ঘরবাড়ি কিনতে পারবে না। আরবরাও ইহুদিদের বাড়িঘর কিনতে পারবে না। জেরুজালেমে নতুন আর কোনো এলাকা দখল করা হবে না। পবিত্র স্থানগুলোর বিদ্যমান অবস্থা বজায় থাকবে।

তবে জেরুজালেমের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইসরায়েলের জেরুজালেম পৌরসভার হাতে। আর সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকবে ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষের হাতে। ইসরায়েলের জেরুজালেম পৌরসভার কাছে ট্যাক্স ও পানির বিল সরবরাহ করবে নিউ প্যালেস্টাইন। চুক্তি অনুসারে ফিলিস্তিনে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য জমি দেবে মিসর। কলকারখানা নির্মাণ, বাণিজ্যিক ও কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্যও নতুন ভূখণ্ড দেবে মিসর। তবে ফিলিস্তিনিরা এখানে বসবাসের সুযোগ পাবে না। জমির লিজের মূল্য পরিশোধ করবে নিউ প্যালেস্টাইন।

চুক্তি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো। নিউ প্যালেস্টাইনের বিভিন্ন প্রকল্পে পাঁচ বছরে ৩০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে তারা। এর আওতায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে থাকা ইহুদি বসতিগুলোকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।

নিউ প্যালেস্টাইন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি সুরক্ষা চুক্তি সম্পাদিত হবে। এর আওতায় বিদেশি আগ্রাসন থেকে দেশ রক্ষায় ইসরায়েলকে অর্থ দেবে ফিলিস্তিন। চুক্তি স্বাক্ষরকালে হামাস তার সব অস্ত্র মিসরের কাছে জমা দেবে। ব্যক্তিগত অস্ত্রও এর আওতায় পড়বে। সরকার গঠনের আগপর্যন্ত হামাসের নেতাকর্মীরা সহযোগী দেশগুলোর কাছ থেকে বেতন পাবে। রাষ্ট্র গঠনের এক বছরের মাথায় নিউ প্যালেস্টাইনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চুক্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিকে অগ্রাহ্য করে কেন্দ্র শাসিত রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। চুক্তি ফাঁসের ঘটনায় ফিলিস্তিনের হামাস ও পিএলও ছাড়াও একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এমন ফিলিস্তিন পাশর্^বর্তী দেশ লেবানন এ নিয়ে নিন্দা প্রকাশ করেছে। কিন্তু ওয়াশিংটন ডিসি এবং ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোন মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইসরায়েলি লবি দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক পর্যায়ে চাপা থাকা দাবি পূরণে রিপাবলিকান সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত