বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আওয়ামী সিন্ডিকেট রমজান এলেই দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে মানুষকে জিম্মি করে। গতকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, ‘বাজারদরের মতোই সরকারের ভেতর চলছে অস্থিরতা। সরকারের সীমাহীন লুটপাট ও দুর্নীতির কারণেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে নিষ্পেষিত হচ্ছে জনগণ। সিয়াম সাধনার এই মাসে মানুষের চরম কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘবে মিডনাইট নির্বাচনের সরকারের যেন কোনো দায়বদ্ধতা নেই। বাণিজ্যমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়বে না বলে যেদিন ঘোষণা দিলেন, পরদিন থেকেই হু হু করে দাম বেড়েছে প্রায় সব পণ্যের। অথচ সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা বাগাড়ম্বর করে চলেছেন।’
সরকার নির্ধারিত মূল্যে গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে না অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘রোজার মাসের জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশন গরু ও খাসির মাংসের দাম কেজিপ্রতি যথাক্রমে ৫২৫ ও ৭৫০ টাকায় বেঁধে দিয়েছে। তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ এবং খাসির ৮০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা এর কারণ হিসেবে অতিরিক্ত খাজনা ও সরকারি লোকজনের চাঁদা আদায়কে দায়ী করছেন। তারা বলছেন, পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে প্রতি কেজি মাংস ৩০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। এই চাঁদাবাজির অর্থ যাচ্ছে সরকারের ওপর মহলে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করে রিজভী বলেন, ‘গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়া সুচিকিৎসা না পেয়ে দুঃসহ যাতনা ভোগ করছেন। তাকে মুক্তি দিলে তিনি তার পছন্দমতো বিশেষায়িত হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে পারবেন। ভালোভাবে রোজা পালন করতে পারবেন। আদালতকে কুক্ষিগত করে রেখে তার জামিনে পদে পদে বাধা দেওয়া বন্ধ করুন। জামিনে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। মানুষ আর নির্বাক বসে থাকবে না। যেকোনো মুহূর্তে ক্ষমতার গণেশ উল্টে যাবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, অধ্যাপক শাহিদা রফিক, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।
