ভাঙনের কবলে বাদুড়তলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ০৯ মে ২০১৯, ১০:৪৪ পিএম

ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে বিষখালী নদীর ভাঙনের ফলে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের বাদুড়তলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। ফণির প্রভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের পূর্বপাশের অংশটি মালামালসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় পুরো বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে পানি বাড়ায় বর্ষা মৌসুম আসার আগেই বিষখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। তীব্র ভাঙনে বাদুড়তলা লঞ্চঘাট, বাদুড়তলা বাজার, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের সড়ক এরই মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক বসতবাড়ি, একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাদুড়তলা জামে মসজিদসহ বেশ কিছু স্থাপনা। এ ছাড়া বাদুড়তলা-পুখরীজানা-মানকিসুন্দর সড়ক ও বাদুড়তলা-চল্লিশ কাহনিয়া সড়কটিও নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে মঠবাড়ি ইউনিয়নসহ এই গ্রামের হাজারো মানুষ পড়েছে বিপাকে। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের একটি কক্ষ আসবাবপত্র, বেঞ্চ, টেবিল ও চেয়ারসহ মালপত্রসহ রাতের আঁধারে বিষখালী নদীতে ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধ করা না গেলে অচিরেই হয়তো পুরো বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌস হাওলাদার জানান, ‘এই গ্রামে একটি মাত্র বিদ্যালয় যেখানে আমার সন্তানসহ কয়েকশ ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়টি নদীতে ভেঙে গেলে দশ কিলোমিটার দূরে উপজেলা সদরের স্কুলে অনেক ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া করা সম্ভব হবে না।’

এ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুক্তা আক্তার জানায়, ‘বিদ্যালয়ের একটি ভবনের অর্ধেকটা নদীতে ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ক্লাস অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুরো ভবনটি ভেঙে গেলে আমাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইউব আলী জানান, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন এবং বিদ্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ঝালকাঠি ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলা ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের সহকারী শিক্ষা প্রকৌশলী বাদুড়তলা ভাঙন কবলিত বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। দুএক দিনের মধ্যেই ভাঙা বিদ্যালয়টির নিলাম ডাকা হবে। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের জন্য নতুন জায়গার অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত