বাগেরহাটের শরণখোলায় পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ লাকি বেগমকে (২৮) তার স্বামী পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্ত্রীকে হত্যার পর দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গেছে স্বামী নুরুল আমিন চৌকিদার (৩৪)। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে শরণখোলা উপজেলার উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের সাতঘর এলাকায় এই হত্যাকা- ঘটে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম হাওলাদার ভগ্নিপতি নুরুল আমিন চৌকিদারকে আসামি করে শরণখোলা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত লাকি বেগম আমড়াগাছিয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে। তাদের ঘরে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে ও দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। নুরুল আমিন চৌকিদার উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের বরাত দিয়ে শরণখোলা থানার ওসি মো. মফিজুর রহমান শেখ জানান, প্রায় আট বছর আগে শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আব্দুল হক চৌকিদারের ছেলে নুরুল আমিন চৌকিদারে সঙ্গে একই উপজেলার ভারতপ্রবাসী উত্তর আমড়াগাছিয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে লাকি বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ভারতের কেরালা রাজ্যে ভাঙাড়ির ব্যবসা করা খলিলুর রহমান তার জামাতা নুরুল আমিনকে সেখানে নিয়ে যান। এরপর থেকে জামাতা মাঝে মধ্যে শরণখোলাতে কিছুদিন থেকে আবার চলে যেতেন। বিয়ের পর থেকে তার মেয়ে ও জামাতার মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। গত বুধবার বিকেলে নুরুল আমিন ভারত থেকে বাড়িতে আসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর প্রায় সাড়ে চারটার দিকে লাকির বড় ভাই নুরুল ইসলাম হাওলাদারের মুঠোফোনে তার ভগ্নিপতি নুরুল আমিন ফোনে জানায়, ‘তোমার বোনকে পিটিয়ে ফেলে রেখে এসেছি আর আমার দুই সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছি’ বলে লাইন কেটে দিয়ে ফোনসেটটি বন্ধ করে দেয়। পুলিশে খবর দিলে তারা লাকির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত লাকির গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।
