কলা পাকছে কৃত্রিম তাপ, রাসায়নিকে

আপডেট : ১০ মে ২০১৯, ১০:৫২ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কাঁচা ও অপুষ্ট কলাকে কৃত্রিম তাপ ও রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হচ্ছে। কলার কাঁদির নিচে কেরোসিনের স্টোভ জ্বালিয়ে তাপ দিয়ে পাকানো হচ্ছে এসব কলা। দ্রুত পাকানোর জন্য এর ওপর ছিটানো হচ্ছে বিভিন্ন রাসায়নিক।

জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পার্বতীপুরে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ অটোচার্জার ভ্যান কাঁচা ও অপরিপক্ব কলা আসছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এ পদ্ধতি ব্যবহার করছে পার্বতীপুর শহীদ রেলওয়ে মসজিদের পেছনের চার কলা আড়ত ব্যবসায়ী। ফলে আড়তেই এখন দেখা মিলছে এভাবে কলা পাকানোর দৃশ্য। শহীদ মিনার রোডের ফল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাঁচা ও অপুষ্ট যেকোনো ফলই তাপ দিয়ে পাকানো সম্ভব। এ তাপ পদ্ধতিতে আম পাকাতে তিন দিন সময় লাগে। পেঁপে দুদিন, কলা এক থেকে দুদিন। এভাবে কলা পাকানোর পর এখান থেকেই পাইকারি দরে বিক্রি হয়। পরে খুচরা ক্রেতাদের মাধ্যমে তা চলে যায় পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে।

এ বিষয়ে আড়ত মালিক আজিমুল হক বলেন, তাপ দিয়ে কলা পাকানো হলেও কোনো রাসায়নিকের ব্যবহার নেই। এ ক্ষেত্রে কলাটি নিরাপদ। যদিও চিকিৎসক বলছেন, তাপ দিয়ে পাকানো কলায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে। শহরের রিয়াজনগর মহল্লার আজিজার রহমান (৬৩) নামে এক ভোক্তা বলেন, হিট দিয়ে কলা পাকানোর কারণে ফলের স্বাদ আগের মতো পাওয়া যায় না। আগে একটি পেঁপে যেমন মিষ্টি লাগত, এখন সেটা মনে হয় না। তবে এতে প্রশাসনের নজরদারি থাকলে হয়তো এভাবে ফল পাকাতে পারতেন না ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবদুল্লা হেল মাফী বলেন, রাসায়নিক ও কৃত্রিম তাপে পাকানো ফল খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে। একই সঙ্গে ফলের পরিপূর্ণ কোনো গুণাগুণ থাকে না। এসব ফল খেলে এলার্জিসহ নানা ধরনের চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণ ভোক্তাদের এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহানুল হক বলেন, যারা রাসায়নিক ব্যবহার করে অপরিপক্ব ফল পাকাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত