বাংলাদেশি সাজার গোপন প্রশিক্ষণ রোহিঙ্গাদের!

আপডেট : ১১ মে ২০১৯, ০১:৩৮ এএম

বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। বাংলা ভাষায় কথা বলা থেকে থেকে শুরু করে বাংলাদেশের মানুষের চালচলন, পোশাক-পরিচ্ছদ ও আচার-আচরণের কৌশল রপ্ত করছে তারা। স্বল্পমেয়াদি এই প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে নানা কৌশলে বাংলাদেশি পাসপোর্ট হাতিয়ে নিয়ে নাগরিক বনে যাচ্ছে তাদের একটা বড় অংশ। এরপর এসব পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিভিন্ন দেশে পাড়িও জমিয়েছে তাদের অনেকে। কেউ কেউ জঙ্গি কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার খিলক্ষেত এলাকা থেকে নারী ও শিশুসহ ২৩ রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে এসব তথ্য পেয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা। 

এ প্রসঙ্গে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন

কৌশলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি সাজার চেষ্টা করছে। নিজেদের নামে বাংলাদেশি পাসপোর্ট তৈরি করে অনেকেই বিদেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এমন তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২৩ রোহিঙ্গাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নারী-শিশুও রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে তারা পাসপোর্ট তৈরি করেছিল।

ডিবির পশ্চিম বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত ও বিমানবন্দর এলাকার আশপাশে দেশীয় দালালদের যোগসাজশে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের মানুষের চালচলনের ওপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে বলে জানতে পেরেছি। এ ধরনের প্রশিক্ষণের নেপথ্যে দেশীয় নাগরিক হিসেবে বিদেশে পালানোর পাশাপাশি নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার পরিকল্পনা আছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হচ্ছেÑ বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) আড়ালে থাকা কিছু দুষ্টচক্রের সহায়তায় অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে জঙ্গি কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়ছে।’

যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশের কাছে অনেক বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জাল পাসপোর্টও আছে। তারা দালালের মাধ্যমে ঢাকার ঠিকানা দিয়ে এসব পাসপোর্ট বানিয়েছে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য। কেউ কেউ পাসপোর্ট হাতে পেয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করেছিল। বাকিদের পাসপোর্টও শিগগিরই হয়ে যেত। তিনি বলেন, ‘কীভাবে রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পেল সে বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি। এতে পাসপোর্ট অফিসের অসাধু সদস্যরাও জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

ডিবির অপর এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার ২৩ রোহিঙ্গা খিলক্ষেতের একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় গত এক মাস ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল। লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে বিদেশে পালানোর সুবিধার্থে তারা ওই বাসায় অবস্থান করছিল। রোহিঙ্গারা যেখানে ছিল তার পাশের ফ্ল্যাটেই ছিল বাড়ির মালিকের ছেলে কাজল। তার তত্ত্বাবধানে সেখানেই বাংলা ভাষা ও চালচলনের ওপর প্রশিক্ষণ চলছিল। এই প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ঠিকানা ব্যবহার করে পাসপোর্ট বানিয়ে তারা বাংলাদেশি নাগরিকত্ব অর্জনের চেষ্টা করছিল। এর আগেও এই এলাকার বেশ কয়েকটি বাসায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও পাসপোর্ট বানিয়ে অনেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে গেছ। আবার অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে খিলক্ষেত থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রাজধানীতে ঢুকে পড়ছে এসব রোহিঙ্গা। গ্রেপ্তাকৃতদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা মালেয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এজন্য তাদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শুক্রবার ভোররাতে ডিবির একটি টিম খিলক্ষেতের মধ্যপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত