ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ করে মাঠের ভেতর হাত পা ও মুখ বেধে ফেলে রেখে যায় ধর্ষকেরা।
শনিবার সকালে ওই গ্রামের মাঠ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
কিশোরী ওই এলাকার কোটবাগ দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির ছাত্রী। ধর্ষক আল-আমিন (১৬) ওই উপজেলার বৃত্তিপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে।
অন্যদিকে কালিগঞ্জ শহরের বলিদাপাড়া গ্রামে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ৭ম শ্রেণির আরেক ছাত্রীকে (১৩) গণধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় মেয়েটির শনিবার সকালে থানায় মামলা করলে শনিবার বলিদাপাড়া গ্রামের বদর উদ্দিনের ছেলে খায়রুল (২২) ও রবিউল ইসলাম নবীর ছেলে মোর্তজা বাপ্পী (২৩) কে গ্রেপ্তার করে।
কিশোরীর বাবা জানায় শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির পাশে মোবাইল ফোনের চার্জার আনতে যায় তার মেয়ে। সে সময় চার্জার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা আল-আমিন ও তার সহযোগীরা ওই মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তাকে হাত পা ও মুখ বেঁধে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আল-আমিন ও তার সহযোগীরা ।
এদিকে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে কালিগঞ্জ শহরের আয়েশা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ৩ যুবক কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকালে ধর্ষিতার পিতা কালিগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে বলা হয়েছে বলিদাপাড় গ্রামের যুবক খায়রুল গত ৩ মাস ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই তার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিত। এক পর্যায়ে তার মেয়েকে ফুসলিয়ে খায়রুল প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। এঘটনা জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার খায়রুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। কিন্তু খায়রুল বিয়ে করতে অস্বীকার করে উপরন্তু তার বন্ধুদের সহযোগিতায় গত ২৫ এপ্রিল স্কুল ছাত্রীকে জনৈক রাব্বীর ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।
মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে সামাজিক ভাবে ঘটনাটি নিরসন করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ঘটনার ১৫ দিন পর ৩ যুবকের নামে থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ অভিযুক্ত ৩ জনের মধ্যে দু’জনকে আটক করলেও একজন পলাতক রয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইউনুস আলী খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন এ ঘটনায় শনিবার কালিগঞ্জ থানায় সকাল ও বিকেলে পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। এবং এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি আরো জানান। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়ে।
