লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা ছিলেন। গত শুক্রবার রাতে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ার উপকূলে যে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে যায় তার ৭৫ যাত্রীর মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বাংলাদেশের। তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেটের ওই হতভাগ্য ছয় তরুণ।
আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মুহিদপুর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে আহমদ হোসেন (২৪), একই গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আবদুল আজিজ (২৫), সিরাজ মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (২৩), গোলাপগঞ্জ উপজেলার হাওরতলা গ্রামের মৃত রফিকউদ্দিনের ছেলে আফজল মাহমুদ (২৪), গোলাপগঞ্জ উপজেলার কদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে কামরান আহমদ মারুফ (২০) এবং মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বাদেভূকশিমইল গ্রামের আবদুল খালিকের ছেলে আহসান হাবীব শামীম (১৯)।
নিহত আহসান হাবীব শামীমের বড় ভাই সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ জানান, তাদের সাত ভাই ও তিন বোনের মধ্যে শামীম সবার ছোট। এ বছর সে দাখিল পরীক্ষার্থী ছিল। কিন্তু পরীক্ষা না দিয়ে ইউরোপের উদ্দেশে গত জানুয়ারি মাসে দেশ ছেড়েছিল।
শামীমের সঙ্গে সামাদের শ্যালক কামরান আহমদ মারুফও ছিল। নৌকাডুবিতে মারুফও মারা গেছেন। সামাদ জানান, তার মা রাজনা বেগম ছেলে হারিয়ে বিলাপ করছেন। গত বৃহস্পতিবার সাহরির পর শামীমের সঙ্গে তার মায়ের সর্বশেষ কথা হয়েছিল। ওইদিন শামীম তার মাকে জানিয়েছিল যে, দীর্ঘপথ হাঁটার পর এবার তারা ৮০ জনের মতো লোক একসঙ্গে নৌকায় সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছবে।
এদিকে ফেঞ্চুগঞ্জের তিন যুবক আহমদ হোসেন, আবদুল আজিজ ও লিটন মিয়ার মারা যাওয়ার খবর দেশে ফোন করে জানিয়েছেন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া দিলাল আহমদ। তিনি নিহত আবদুল আজিজের চাচা।
নিহত কামরান আহমদ মারুফের ভাই মাসুদ আহমদ জানান, তার দুই ভাই মারুফ ও মাছুম অন্যদের সঙ্গে একই নৌকায় ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। নৌকা ডুবে যাওয়ার পর মারুফ ও মাছুম দীর্ঘ সময় একে অন্যের হাত ধরেছিল। পরে মারুফ নিখোঁজ হয়ে গেলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় মাছুম। তিউনিসিয়া থেকে মাছুম ফোনে এসব তথ্য তার পরিবারের কাছে নিশ্চিত করেছে।
মাসুদ আহমদ আরও জানান, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারের রাজা ম্যানশনের ইয়াহইয়া ওভারসিজের মাধ্যমে জনপ্রতি ৮ লাখ টাকা চুক্তিতে তার দুই ভাইকে ইতালির উদ্দেশে পাঠিয়েছিলেন। ওই ট্রাভেল এজেন্সি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে যাত্রীদের ইউরোপে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবসা করে।
এদিকে গতকাল রবিবার ওই এজেন্সিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানের মালিক এনাম আহমদের মোবাইল ফোনে কল দিয়েও বন্ধ পাওয়া যায়। আশপাশের লোকজন জানান, অবৈধ পথে ইউরোপ পাঠানোর রমরমা ব্যবসা করছে এনাম আহমদসহ আরও কিছু অসাধু ট্রাভেল ব্যবসায়ী। আর তাদের এই আদম ব্যবসার ফাঁদে পা দিয়ে ঝরছে অনেক তরুণের প্রাণ।
