বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের অবদান ৮৩ শতাংশ। পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দেশটির অবস্থান সম্মানজনক চতুর্থ। বিশ্বের খ্যাতিমান স্পোর্টসসামগ্রী বিক্রেতা কোম্পানি অ্যাডিডাসের জার্সি তৈরিসহ গেল বছর ফুটবল বিশ্বকাপে দুনিয়ার শীর্ষসারির অসংখ্য ফুটবলার পরেছিলেন বাংলাদেশের তৈরি জার্সি। এত কিছুর পরও নিজেদের বাজারে কতটুকু প্রভাব রাখতে পারছে বাংলাদেশের পোশাক?
এ প্রশ্নের সহজ উত্তর পাওয়া গেল রাজধানীর অভিজাত শপিং মলগুলোতে। ঈদ উপলক্ষে বসুন্ধরা শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, সীমান্ত সম্ভার মার্কেটসহ প্রায় সব শপিং মলে ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও চীনের পোশাকে থরে থরে সেজেছে দোকান। ক্রেতাদের আগ্রহও ওই বিদেশি পোশাকে। এবারের ঈদের আগের অবস্থা এমন হয়েছে যে, দেশি পোশাক দোকানে তোলেননি বেশিরভাগ ব্যবসায়ী।
দুয়েকটি দোকানে দেশি পোশাক থাকলেও ডিসপ্লেতে সেগুলো রাখা হচ্ছে না। বাংলাদেশে ফ্যাশন হাউসগুলোর সংগঠন ফ্যাশনের তথ্য অনুসারে, গত বছর ঈদকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। সেখানে দেশের বুটিক হাউসগুলোর ব্যবসা মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকার মতো। আর বিদেশি পোশাক বিক্রি হয়েছে বাকি ২১ হাজার কোটি টাকার। এ হিসাবে ঈদ বাণিজ্যের ৮৪ শতাংশই বিদেশি পণ্যের দখলে।
রাজধানীর অভিজাত কয়েকটি শপিং মল ঘুরে দেখে যায়, ঈদের বাজার জমে না উঠলেও পাঞ্জাবি, পায়জামা, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শাড়ি, শিশুদের পোশাকে বাড়তি সাজে সাজানো হয়েছে বেশিরভাগ দোকান। যার প্রায় সবই বিদেশি পোশাক। প্রতিটি পণ্যের দামও হাঁকা হচ্ছে গগনচুম্বী। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাড়ির জগতে ঢাকাই জামদানি কদর দুনিয়াজোড়া হলেও দেশের বাজারের চাহিদা কমে গেছে।
বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ভারতের দিল্লি, কলকাতা ও মুম্বাই থেকে বিভিন্ন বুটিকসের পোশাক আনা হয়েছে। আর ছেলেদের জন্য ভারতীয় সুলতান, খান সাহেব, মনীষ মালহোত্রাÑ নানান চটকপূর্ণ নামে পাঞ্জাবি আনা হয়েছে বাজারে। এসব পোশাকের মধ্যে শাড়ি সর্বনিম্ন ২ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা, পাঞ্জাবি ১৮০০ থেকে ২০ হাজার টাকা, থ্রি-পিস ৮ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা, লেহেঙ্গা সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। অথচ দেশি পোশাকের দাম এর কয়েকগুণ কম হলেও ক্রেতাদের আগ্রহ কম।
এর কারণ জানতে চাইলে যমুনা ফিউচার পার্কের এক্সেসরিজ শপ ইনফিনিটির সহকারী ব্যবস্থাপক লাবলু খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদের পোশাকে ভারতের আধিপত্য বাংলাদেশে অলিখিত নিয়ম হয়ে গেছে। দেশের বুটিক হাউসগুলোর পোশাকের মান খারাপ বলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
গুলশানের তরুণী নন্দিতা তাবাসসুম বলেন, ‘দেশি বুটিকের কাপড় তুলনামূলক “সিম্পল” বলে মনে হয়। সেগুলো গর্জিয়াস মনে হয় না। তাই ভারতীয় পোশাকই আমার পছন্দ।’
দেশি ফ্যাশন হাউস ‘বিশ্ব রঙ’র মালিক ও ডিজাইনার বিপ্লব সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশি পোশাকের মান খারাপ কথাটা ঠিক নয়। আসলে আমরা আমাদের ক্যারেক্টারে কাজ করি। পহেলা বৈশাখ, পূজা এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে দেশি পোশাক চলে। একমাত্র ঈদের সময় বিদেশি পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যায়।
