পঞ্চগড়ে ৪০০ টার্কি খামারির স্বপ্নভঙ্গ

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ১২:১৩ এএম

লাখ লাখ টাকার লাভের স্বপ্ন দেখিয়ে ৪০০ জন উদ্যোক্তা খামারির স্বপ্ন ভঙ্গ করে ১৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন লাপাত্তা স্বপ্নতরী সার্ভিসেস লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান। টার্কি মুরগি প্রতিপালন প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৯০ দিনের মাথায় লাখ টাকার স্বপ্ন দেখায় ওই ভুয়া প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ ধনী হওয়ার আশায় এনজিওর ঋণ অথবা জমি বিক্রি বা বন্ধক দিয়ে টাকা সংগ্রহ করে তা লগ্নি করে এখন পথে বসেছে ৪০০ ব্যক্তির ৪০০ পরিবার। আগে কোম্পানির চেয়ারম্যান প্রতারক মানিক চন্দ্র মোবাইল ফোন রিসিভ করলেও কয়েক দিন ধরে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ। অবশেষে তারা তাদের টাকা উদ্ধারে শরণাপন্ন হয়েছেন পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কাছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিরা এরই মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন জমা দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, দিনাজপুরের বীরগঞ্জের ‘স্বপ্নতরী সার্ভিসেস লিমিডেট’ নামক প্রতিষ্ঠানটি টার্কি মুরগি প্রতিপালনের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মানিক চন্দ্র রায়ের বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরের গড়েয়া এলাকার গড়েয়া গোপালপুর গ্রামে। তার বর্তমান ঠিকানা ৪ নম্বর ওয়ার্ড, সুজালপুর, সøুুইসগেট, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর। এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকাভিত্তিক এরিয়া ম্যানেজার, ইউসি ও এফও নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে টার্কি মুরগি প্রতিপালন প্রকল্পের নামে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলÑ এমনকি শহরাঞ্চলের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা প্রতিটি প্যাকেজ ২৪ হাজার ৮০০ টাকায় মানুষের কাছ থেকে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করে টাকা হাতিয়ে নেয়। চুক্তি অনুযায়ী মুরগির বাচ্চা দেওয়ার পর পরবর্তী ৯০ দিন মুরগির খাবার এবং চিকিৎসা খরচ কোম্পানি থেকে বহন করবে। ৯০ দিন পর কোম্পানি সেই মুরগি নিয়ে যাবে। এ সময় খামারিকে প্যাকেজপ্রতি সাড়ে আট হাজার টাকা লাভসহ ৩৩ হাজার ৩০০ টাকা দেবে। এভাবে একেকজন খামারি একটি থেকে শুরু করে ২৫-৩০টি প্যাকেজের জন্য কোম্পানির প্রতিনিধির হাতে টাকা দিয়ে স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হয়। এভাবে কোম্পানিটি পঞ্চগড় জেলার ৪০০ খামারির কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন লাপাত্তা।

এ নিয়ে কথা বলার জন্য স্বপ্নতরী সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মানিক চন্দ্র বর্মণের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ দাশ জানান, ‘আমরা আগে জেনেছিলাম পঞ্চগড়ে খামার আকারে টার্কি মুরগির চাষ হচ্ছে। এখন খামারিদের টাকা না দেওয়ার বিষয়টি শুনতে পাচ্ছি। এ বিষয়ে আমাদের কোনো করণীয় নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত