কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে চলন্ত বাসে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় বাসচালকের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আপত্তি জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা। বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু জবানবন্দিতে এই ঘটনার সঙ্গে শুধু তিনজনের জড়িত থাকার কথা জানালেও তানিয়ার পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এ হত্যার সঙ্গে আরও তিন-চারজন জড়িত আছেন। প্রকৃত সত্য আড়াল করতেই নূরু এমন জবানবন্দি দিয়েছেন। তানিয়া হত্যার মোড় অন্যদিকে ঘোরাতে একটি ‘শক্তিশালী চক্র’ কাজ করেছে বলেও তাদের অভিযোগ।
তানিয়ার ভাই সবুজ মিয়া গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে পারি, তানিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে মাথার পেছনের আঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুতর। ভারী কিছু দিয়ে আঘাতের ফলে তার মাথার পেছনের খুলি ফেটে যায়। মাথার খুলি দুই ভাগ হয়ে যাওয়া ছাড়াও মাথার পেছনের দিকে দুটি হাড় ভেঙে যায়। গণধর্ষণ শেষে এই আঘাতের কারণেই তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আবার লাশটি নিয়ে দুই ঘণ্টা এদিক-সেদিক ঘুরাফেরা তো শুধু তিনজনের কাজ নয়।’
তানিয়ার চাচা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাতিজি ছিল শক্তিশালী
একজন মানুষ। তাকে অনেক জোর খাটিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করেছে ঘাতকরা। তবে শুধু তিনজনই যে এ ধর্ষণ ও হত্যার সাথে জড়িত ছিল তা আমরা বিশ্বাস করতে পারি না। এ ঘটনার সাথে আরও তিন-চারজন জড়িত ছিল। কারণ তানিয়াকে বাসের ভেতর আটকে দরজা-জানালা বন্ধ করা, এ সময় বাস চালানো, পরে তাকে ধর্ষণ এবং হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে তাকে নিয়ে ফার্মেসিতে ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া তিনজনের পক্ষে সম্ভব নয়।’
তানিয়ার বাবা মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘জবানবন্দিতে আমরা সন্তুষ্ট নই। কারণ আমার মেয়েকে ধর্ষণ ও হত্যার পেছনে তিনজন নয়, আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে। যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে জড়িত অন্যদেরও খুঁজে বের করতে হবে। তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে অনেক অভিনয় হয়েছে। আমার মেয়েকে হত্যাকারীরা পাগল আখ্যায়িত করে ঘটনা অন্যদিকে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমাদের শক্ত প্রতিবাদের কারণে তা পারেনি। আমরা চাই, পিবিআইয়ের তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক।’
গত সোমবার ঢাকা থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে করে কটিয়াদীতে বাড়ি ফিরছিলেন ২৩ বছর বয়সী ওই নার্স। রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে জামতলী এলাকায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের পাশ থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী। কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করতেন। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় মামলা করেছেন।
এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাদের মধ্যে বাসচালক নূরু গত রবিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
