নড়বড়ে সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ঝিনাইগাতীতে বিধ্বস্ত সেতু পড়ে আছে ৭ বছর

আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ০৯:৫৫ পিএম

তিন যুগ আগে নির্মাণ করা হয় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া গ্রামে ‘কাটাখালী সেতু’। নির্মাণের পর দুই যুগ সেতুর সুফল পেলেও প্রায় সাত বছর আগে পাহাড়ি ঢলে আকস্মিকভাবে সেতুটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকেই এখনো পড়ে আছে ভাঙা অবস্থায়।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে ভাঙা অবস্থায় কাটাখালী খালের পানিতে পড়ে আছে। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা ভেঙে যাওয়া সেতুর পাশ দিয়ে দুটি বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বর্ষা মৌসুমে স্রোতের তীব্রতার মুখে এটিও অচল হয়ে পড়তে পারে শঙ্কা এলাকাবাসীর।

স্থানীয়রা জানান, এটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে সেতু দিয়ে যাতায়াতকারীরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে। সেতুটির পশ্চিম পাশের স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা থাকায় স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করলেও সাঁকো দিয়ে বৃদ্ধ ও শিশুরা চলাচল করতে পারেন না। তা ছাড়া উৎপাদিত কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করতেও বেগ পেতে হচ্ছে। চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় কেউ অসুস্থ হলে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ অঞ্চলের প্রায় ১০ গ্রামের মানুষ চার কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা শহরে যাতায়াত করছেন। তাদের দাবি, জনগণের ভোগান্তি নিরসনে যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে পাহাড়ি ঢলে সেতুটির সংযোগ সড়কের মাটি সরে যায়। তখন এলাকাবাসী ওই স্থানে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো বানিয়ে কোনো রকমে যাতায়াত চালু রাখে। কিন্তু ২০১২ সালে আবার প্রচণ্ড ঢলে সেতুটি সম্পূর্ণরূপে ধসে খালের মাঝখানে পড়ে যায়। এরপর থেকে সেতুসংলগ্ন কোনাগাঁও, পাইকুড়া, সুরিহারা, খিলগাঁও, দড়িকালিনগর, নয়ানীপাড়া, বালিয়াচসহ ১০ গ্রামের প্রায় সাত হাজার মানুষ চলাচলে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

কোনাগাঁও গ্রামের শিক্ষার্থী রবিন, মুন্নি, মামুনসহ অনেকেই বলেন, বর্ষা মৌসুমে খালে তীব্র স্রোত থাকে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। আবার অনেকে তিন-চার কিলোমিটার হেঁটে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

পাইকুড়া কাটাখালী মসজিদের মুয়াজ্জিন সামিউল বলেন, খালের পূর্ব পারে আমার বাড়ি। আর পশ্চিম পারে মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করায় দিনে ১০ বার যাতায়াত করতে হয়। বাঁশের নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পাড় হতে হয় খাল। তিনি অনেকবার বাঁশের সাঁকো থেকে পানিতে পড়ে ভিজে গেছেন বলেও জানান।

পাইকুড়া এআরপি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরনবী আজাদ বলেন, কাটাখালী খালে সেতুর অভাবে ১০ গ্রামের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী তিন কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করে। আবার অনেকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে বিদ্যালয়ে আসার সময় পড়ে গিয়ে জামা-কাপড় ভিজে যায়। ফলে ছাত্ররা ভেজা শরীরে বিদ্যালয়ে আসে।

উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, এ খালের ওপর ভেঙে যাওয়া সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য এমআরআরআইডিপি প্রকল্পের আওতায় মাটি পরীক্ষা ও ডিজাইনের কাজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন পেলে দ্রুত সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত