বাজিতপুরে চলন্ত বাসে নার্স শাহীনুর আক্তার তানিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে আরও এক আসামি জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আল মামুনের খাসকামরায় ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেন স্বর্ণলতা বাসের চালকের সহকারী লালন মিয়া। তিনি জবানবন্দিতে তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তিনজন জড়িত থাকার কথা বলেছেন বলে এই মামলার তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক পুলিশ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। এর আগে গত রবিবার একই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মামলার আরেক আসামি বাসচালক নূরুজ্জামান নূরুও একই কথা জানিয়েছিলেন।
গতকাল দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা লালন মিয়া তার জবানবন্দিতে তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার লোহমর্ষক বর্ণনা দেন। জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে দুপুরে লালনকে কঠোর গোপনীয়তা ও পুলিশি পাহারায় আদালতে হাজির করা হয়।
তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গত ৮ মে নূরু ও লালনসহ পাঁচজনকে আট দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডের পাঁচ দিনের মাথায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন নূরু। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল জবানবন্দি দিলেন লালন। তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়ার বীর উজুলি গ্রামের প্রয়াত আবদুল হামিদের ছেলে।
লালনের জবানবন্দির বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তার দেওয়া জবানবন্দিতে এই মামলার সার্বিক বিষয় আরও স্পষ্ট হলো। বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
গত ৬ মে ঢাকার কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত নার্স তানিয়া বাসে করে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার বাহেরচর গ্রামের নিজ বাড়িতে আসছিলেন। পথে বাজিতপুরের জামতলী গজারিয়া এলাকায় তাকে স্বর্ণলতা পরিবহনের বাসের চালক নূরু এবং তার সহকারী লালন মিয়াসহ কয়েকজন ধর্ষণ ও মাথায় আঘাত করে হত্যার পর ফেলে রেখে যায়। তানিয়া কটিয়াদীর লোহাজুরি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াসউদ্দিনের মেয়ে।
