চিকিৎসককে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি

গ্রেপ্তারের ৩ ঘণ্টার মধ্যেই মুক্ত ছাত্রলীগ নেতা

আপডেট : ১৫ মে ২০১৯, ০২:৫৬ এএম

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন শিক্ষানবিস নারী চিকিৎসককে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরী গ্রেপ্তারের তিন ঘণ্টার মধ্যেই থানা হাজত থেকে মুক্ত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, সারোয়ার আগাম জামিন নেওয়ায় তাকে আটকে রাখা যায়নি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে গ্রেপ্তারের আগেই আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন সারোয়ার। পরে বিকেল ৪টার দিকে জামিনের কাগজপত্র দেখিয়ে থানা হাজত থেকে তিনি ছাড়া পান।

এদিকে এই হুমকির ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল মঙ্গলবারও কর্মসূচি পালন করেছেন উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিস চিকিৎসকরা। দুপুরে নগরীর চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা মামলার সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং হাসপাতালে চিকিৎসকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, একজন চিকিৎসককে হত্যা-ধর্ষণের হুমকির মামলার আসামি সারোয়ার হোসেনকে গতকাল দুপুর ১টার দিকে নগরীর বন্দরবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময়েই আসামি আগাম জামিন নেওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানায়। তবে এ সংক্রান্ত কাগজপত্র তাৎক্ষণিক দেখাতে না পারায় তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে জামিনের কাগজপত্র দেখালে থানা হাজত থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সারোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ছাত্রলীগের ১০-১৫ নেতাকর্মী পেটের ব্যথায় আক্রান্ত তাদের এক সহকর্মীকে নিয়ে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যায়। এ সময় দায়িত্বরত নারী চিকিৎসক রোগীর সঙ্গে একজন থেকে অন্যদের কক্ষের বাইরে যেতে বললে তারা ক্ষিপ্ত হয়। একপর্যায়ে সারোয়ার হোসেন ওই চিকিৎসককে চাকু দেখিয়ে হত্যা ও হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের হুমকি দেয়। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ফেরদৌস হাসান বাদী হয়ে সারোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনের নামে গত সোমবার রাতে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত