রমজানেই শুরু করুন ওজন কমানোর মিশন

আপডেট : ১৮ মে ২০১৯, ০৩:০৭ এএম

অনেকেই শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন। কিন্তু কখন কীভাবে শুরু করবেন বুঝতে পারেন না। তাদের জন্য রোজার মাস সবচেয়ে আদর্শ সময়। অন্য কারও ইচ্ছায় আপনার ওজন কমবে না। আপনার নিজের প্রচেষ্টা ও সঠিক পরিকল্পনায় অতিরিক্ত ওজন কমানোর চিন্তা করুন। অতিরিক্ত ওজন সবসময় তিনজনের জায়গা দখল করে রাখে। যেমন লিফটের ধারণ ক্ষমতা যদি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আটজনের জন্য হয়, সেখানে একজনের ওজন দেখা গেল ১২৫ কেজি। অর্থাৎ সেখানে আটজনের স্থলে মাত্র পাঁচজন পর্যন্ত উঠতে পারবে। যদি একটি প্রাইভেট কারের পেছনের সিটে স্বাভাবিক ওজনের তিনজন বসতে পারে, সেখানে স্থূল ব্যক্তি হলে দুজনের বেশি কোনোভাবেই বসা সম্ভব নয়। কোনো পোশাক কিনতে গেলেও উচ্চতা যতই থাকুক না কেন সেই পোশাক হবে এক্সট্রা লার্জ। এ কারণে রেডিমেড সুন্দর কোনো ডিজাইনের পোশাক কেনাই যায় না। সবসময় টেইলর থেকেই  পোশাক তৈরি করতে হয়। খাবারের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটি দেখা যায়। মাঝেমধ্যে একজন স্থূল ব্যক্তির দায় অনেক। বন্ধু মহলে, দাওয়াতে অনেক ক্ষেত্রে বেচে যাওয়া খাবারটাও তাকে খেতে হয়। অফিসে বসতে অন্যান্য কলিগের চেয়ে চেয়ারের সাইজ বড় দরকার হয়। এ অবস্থায় স্থূল ব্যক্তিদের উচিত মনস্থির করা যে, অনেক হয়েছে আর নয়। এবার ওজন কমাব। ওজন কমানোটা অনেকেই ঝামেলা মনে করেন। কারণ অন্যদের পরামর্শ শুনতে শুনতে নিজের কাজ শুরু করা কঠিন হয়ে যায়। রমজান মাস সারা বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিয়মতান্ত্রিক একটি সময়। যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার এবং সাহরি সারতে হয়। চাইলেই খাবার নিজের ইচ্ছেমতো করা যায়। তাই ওজন কমানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে আপনি এ মাসটিকে বিবেচনা করতে পারেন। একজন স্থূল ব্যক্তি কীভাবে রোজায় ওজন কমাতে পারবেন, তার একটি নমুনা দেওয়া হলোÑ

সাহরি : দেহের কাঠামো অনুযায়ী একজন স্থূল ব্যক্তির খাবার গ্রহণের ক্ষমতা একজন স্বাভাবিক ওজনের মানুষের চেয়ে বেশি। অতএব কম খেয়ে ওজন কমাতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ফর্মুলাটা এমন হতে হবে যে, খাবার থাকবে বেশি কিন্তু ক্যালরি কম। এ ধরনের খাবার খেতে মিক্সড সবজির সঙ্গে বোনলেস চিকেন দিয়ে রান্না ১ কাপের সঙ্গে ৪ টে.চামচ ওটস/ধুয়ে নেওয়া আধা কাপ চিড়া মিশিয়ে খেতে পারেন। সঙ্গে খেজুর বা খুরমা খেয়ে নিন ৩-৪টি। মনে রাখবেন অতিরিক্ত পেট ভরে সাহরি করা ঠিক নয়। অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করুন। হাঁটাচলা করুন। নামাজ আদায় করে ঘুমাবেন। অতিরিক্ত সময় ধরে ঘুমাবেন না।

ইফতার : প্রথমেই ভেবে নিন আপনি এবার কোনো ধরনের ভাজাপোড়া খাবার দিয়ে ইফতার করবেন না। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি-১ গ্লাস পানি পান করে ২টি খুরমা, সঙ্গে তোকমা মেশানো কম চিনিযুক্ত লেবু/বাংগী/পেঁপের শরবত ১ গ্লাস খেয়ে নিন। কাঁচা ছোলা খাবেন ২ টে.চামচ। সবজি আর মুরগির মাংস সহযোগে তৈরি পাতলা খিচুড়ি খেতে পারেন এক-দেড় কাপ। এতেই আপনি দেখতে পাবেন প্রায় পেট ভরে গেছে। এরপর আরও ১ গ্লাস পানি পান করুন। কখনই অতিরিক্ত পেট ভরে ইফতার করবেন না। ইফতারের কিছুসময় পরে ২০ মি. হাঁটুন অথবা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। তারাবির আগেÑ কোনো ১টি ফল অথবা মিক্সড ফ্রুট ককটেল ১ কাপ খেয়ে নিন। তারাবির পরে লেবু পানি খাবেন। রাতের খাবারে ভাত-রুটি রাখার প্রয়োজন নেই। খেয়ে নিন ঝোলছাড়া মাছ/মাংস ২-৩ পিস, সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাদামের মিশ্রণে তৈরি করুন মিক্সড সবজি, যা খেতে পারেন ১ কাপ। খাওয়া শেষে লেবু-পানি অবশ্যই খেয়ে নিন। আধা ঘণ্টা পর হাঁটা চলা করে নিন। ঘুমানোর আগে আধা গ্লাস পানিতে ১ টে.চামচ টকদই গুলে খেয়ে নিন। দেখতে পাবেন, রোজার মাসেই আপনার প্রায় ৪-৫ কেজি ওজন কমে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত