সাংবাদিকদের বিএনপির স্থায়ী কমিটি

প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে দেওয়া বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খ বাস্তবায়ন করছেন

আপডেট : ১৯ মে ২০১৯, ০২:১৪ এএম

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত করার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে দেওয়া তার বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন বলে দাবি করেছে বিএনপি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে শোচনীয় পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার একপর্যায়ে বলেছিলেন যে বেগম জিয়া কোনো দিনই কারাগার থেকে বের হবেন না। তিনি দেশে এসে সেটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়ন করছেন। ইতিমধ্যে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থানান্তরের এসআরও জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশ কীসের জন্য এবং কার জন্য করা হচ্ছে তা জনগণের বুঝতে বাকি নেই।’

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া বন্দি হওয়ার অনেক আগে থেকেই নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। একজন বর্ষীয়ান নারীর এই নির্জন মানবেতর কারাবাস স্বাস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কতটা ক্ষতিকারক হতে পারে তা খালেদা জিয়ার বর্তমান গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় উপলব্ধি করা যায়। কারাগারে অবস্থানকালীন তার কক্ষের বাথরুমে তিনি পড়ে গিয়ে প্রচণ্ড ব্যথা পেয়েছেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এখন কারাবন্দি খালেদা জিয়া।’

ব্যারিস্টার জমির বলেন, ‘ধারণা করা হয় যে, কারাগারে থাকার সময় সেখানকার পরিবেশের জন্য ভয়ংকর মাত্রার ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়ামের শূন্যতা দেখা দিয়েছে, যা তার হাড়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এমনিতেই অনেক আগে থেকেই তিনি বাম কাঁধ ও হাতের ব্যথায় ভুগতেন। এখন সেই ব্যথা ডান কাঁধ ও হাতেও সম্প্রসারিত হয়ে মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। তিনি এখন দুই হাতেই নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বশেষ খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, ইনস্যুলিন ব্যবহারের পরেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ তো হচ্ছেই না, বরং তা বিপজ্জনক মাত্রায় অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে তার মুখে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, এই ক্ষতের জন্য মুখে প্রচণ্ড ব্যথার সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে তিনি স্বাভাবিক খাওয়াদাওয়া করতে পারছেন না, কোনোরকমে জাউ খেয়ে জীবন ধারণ করছেন। অথচ সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী ও নেতারা বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করে যাচ্ছেন, যা শুধু অমানবিকই নয়, নিষ্ঠুর মনুষ্যত্বহীন মনেরও বহিঃপ্রকাশ।’

‘আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব নয়, আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে’Ñ বারবার এমন বক্তব্য দেওয়ার পরও আন্দোলনে যাচ্ছেন না কেনÑ সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার জমির বলেন, ‘বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক

 

 দল। এই দলের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। আমরা কোনোভাবেই আইন লঙ্ঘন করতে পারি না। চেষ্টা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে।’

এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা এবং দ্রুত মুক্তির বিষয় নিয়ে এখানে লিখিত বক্তব্য দিয়েছি। আমরা আজ এর মধ্যেই থাকতে চাই। আপনাদের প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে আজকের বিষয়টি ডাইভার্ড হয়ে যাবে।’ আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করছে। তাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জে নেওয়া হচ্ছে।’

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘প্যারোলের কোনো চিন্তাভাবনা নেই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আদালত স্থানান্তর করে খালেদা জিয়ার বিচারকাজ পরিচালনা করা ঠিক হচ্ছে কি না, সেটা নিয়ে আমাদের আইনজীবীরা কাজ করছেন। তারাই খতিয়ে দেখবেন বিষয়টির লজিক্যাল দিক আছে কি না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত