ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে গত ১৯ মে। ভোটগ্রহণ শেষে গত রবিবারের বুথ ফেরত জরিপে দেশটির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়জয়কার দেখা গেছে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান টুডেস চানক্য পর্যন্ত বিজেপির জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু ভারতের ইতিহাসে সাবেক বুথ ফেরত জরিপ শতভাগ সত্যি হয়েছে এমনটা বলা যাবে না।
রবিবারের বুথ ফেরত জরিপ প্রকাশের পর বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) প্রধান মায়াবতী সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে গতকাল সোমবার লক্ষেèৗতে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা পরবর্তী কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। ২৩ মে পরবর্তী সময়ে এই জোট টিকবে কি না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই দুই দলের মধ্যে এরই মধ্যে বিজেপিবিরোধী জোট মহাগাঁটবন্ধন হয়ে আছে। কিন্তু এও সত্যি যাদবদের সঙ্গে বহুজন সমাজ পার্টির দীর্ঘ বৈরিতার ইতিহাসও রয়েছে। বিএসপি-এসপির জোটের চুক্তি অনুসারে বিএসপি ৩৮টি আসনে এবং এসপি ৩৭টি আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে। বাকি তিনটি আসন জোটের অপর শরিক রাষ্ট্রীয় লোক দলের জন্য রাখা হয়। এই জোট অবশ্য রাইবারেলি এবং আমেথিতে কোনো প্রার্থী দেয়নি, কারণ ওই দুটি আসন কংগ্রেসের শক্তিশালী ঘাঁটি।
বুথ ফেরত জরিপের পর অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কলকাতায় দেখা করেন। ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে শক্তিশালী জোট গড়ে কীভাবে বিজেপিকে কোণঠাসা করে সরকার গঠন করা যায়, এই ছিল তাদের আলোচনার বিষয়। যদিও বৈঠকের পর এই দুই নেতা সাংবাদিকদের জোট প্রশ্নে কোনো কথা বলেননি। কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২৩ মে’র ফল ঘোষণার পর যদি বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় সেক্ষেত্রে মহাজোট গঠনের হিসেবে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। আর এক্ষেত্রে কংগ্রেস হয়তো প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে পারে অন্য কোনো দলকে। এমনটা হলে মমতা ব্যানার্জিকে ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দেখা যেতে পারে।
নাইডুকে গত রবিবারও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি প্রধান শারদ পাওয়ার এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্কসিস্ট) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায়। এর আগের দিন শনিবার তিনি বিএসপির মায়াবতী ও এসপির অখিলেশ যাদবের সঙ্গে বৈঠক করেন। এখানে উল্লেখ্য, এই নাইডুকে ২০১৪ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চায় দেখা যায়। লোকসভায় তখন নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি ১৬টি আসন পায়।
এদিকে বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ আজ জাতীয় গণতান্ত্রিক মোর্চার (এনডিএ) অংশীদারদের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠকে বসবেন। বুথ ফেরত জরিপের ফল দেখেই এই বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই জোটের শক্তিশালী পার্টিগুলোর মধ্যে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম, শিবসেনা, লোক জনসংস্কৃতি পার্টি এবং শিরোমনি আকালি দল এগিয়ে। বিজেপির জোট ভাঙার কোনো কারণ না থাকলেও, বিরোধী দলগুলোর জোট গঠন নিয়ে জটিলতা থেকেই যাচ্ছে। কারণ আঞ্চলিক রাজনৈতিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর অনেক সিদ্ধান্ত পাল্টে যেতেও পারে। ফলে মহাগাঁটবন্ধন আসলেই সব বিরোধীদের সম্মিলিত করতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কিত বিশ্লেষকরা।
