কিশোরগঞ্জে কালোবাজারি ছাড়া রেলের টিকিট মিলছে না সাধারণ যাত্রীদের। কাউন্টার থেকে যাত্রীদের হাতে টিকিট দেওয়ার আগেই সব চলে যায় কালোবাজারিদের কব্জায়। নিয়ম অনুযায়ী, ১০ দিন আগে কাউন্টার থেকে টিকিট ছাড়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাত্রীরা কোনো টিকিট না পেয়ে বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ দামে কালোবাজারিদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ে পুলিশ ও স্টেশন মাস্টারের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জের টিকিট কালোবাজারিরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে চিহ্নিত টিকিট কালোবাজারির সংখ্যা ৮ থেকে ১০ জন। এর মধ্যে বিশেষ করে শাহীন মিয়া, গোলাপ মিয়া, সাবু মিয়া, ছাইকুল মিয়া ও পিপুল মিয়া টিকিট কালোবাজারি চক্রের অন্যতম সদস্য।
স্টেশনের জীবন টেলিকম নামের দোকানটি অঘোষিত টিকিট কাউন্টারে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিকিটের গায়ে লেখা মূল্যের দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনছেন কয়েকজন যাত্রী। কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী যাত্রী লালন মিয়া বলেন, ‘আগামী ১০ দিন পর ঢাকা যাব তাই স্টেশনে আসলাম টিকিট কেনার জন্য। কিন্তু কাউন্টারে কোনো টিকিট পেলাম না। তাই বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে ১৪৫ টাকার টিকিট ৩০০ টাকা দিয়ে কিনলাম।’
কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আরেক যাত্রী পোশাক ব্যবসায়ী উজ্জ্বল মিয়া আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘টিকিট না পাওয়ার ঘটনা নিত্যদিনের। প্রতি মাসে দুই-তিনবার কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকা যাতায়াত করি। কিন্তু কোনো সময় কাউন্টারে টিকিট পেলাম না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এজন্য এখন আর টিকিট কিনতে স্টেশনে আসি না, ব্ল্যাকারের (কালোবাজারি) নম্বর সেভ করা আছে। ওদেরকে ফোন দিলেই টিকিটের ব্যবস্থা হয়ে যায়, যদিও টাকাটা দ্বিগুণ লাগে। তারপরও কোনো উপায় না পেয়ে তাদের কাছেই যেতে হয়।’
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম টিকিট কালোবাজারি হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘চিহ্নিত টিকিট কালোবাজারি সবার বাড়ি স্টেশনের আশপাশে হওয়ায় টিকিট না দিলে আমাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার হুমকি দেন।’
পুলিশের নীরব ভূমিকা সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টিকিট কালোবাজারি জানায়, ‘রেলওয়ে পুলিশকে মাসে মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিয়েই আমরা টিকিট বিক্রি করি।’
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ওসি আবদুর রহমান বিশ্বাস টিকিট কালোবাজারিদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘স্টেশন মাস্টার চিহ্নিত কালোবাজারিদের তালিকা দিলে তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
