বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢুকে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম রতন মিয়া আকন্দ (২৭)। গত সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। রতন ফুলবাড়ি ইউনিয়নের কাঁঠালখালি গ্রামের ইদ্রিস আকন্দের ছেলে এবং রামচন্দ্রপুর সাংগঠনিক ইউনিয়ন যুবলীগের নির্বাহী সদস্য। পরিবারের অভিযোগ, একাদশ সংসদ নির্বাচনের জের ধরে প্রতিপক্ষ এক বিএনপি নেতার সমর্থকরা রতনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
নিহত রতনের চাচা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম লিপু দেশ রূপান্তরকে জানান, সোমবার ইফতারের কিছু সময় আগে বন্ধু মিজানুরের সঙ্গে ইফতার করতে রামচন্দ্রপুর বাজারে যায় রতন। ইফতারের পরপরই ফুলবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মী তার ওপর হামলা চালায়। তখন রতন দৌড়ে গিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেয়। এ সময় হামলাকারীরা ওই কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। রতনকে উদ্ধার করে প্রথমে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসকরা রতনকে মৃত ঘোষণা করেন।
রতনের চাচাতো ভাই বিপুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রতন গাজীপুরে রিকশা চালাত এবং তার স্ত্রী ময়না আকতার সেখানে একটি গার্মেন্টসে কাজ করে। সংসদ নির্বাচনের সময় রতন এলাকাতেই ছিল। তখন ভোটের প্রচার নিয়ে ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং বিএনপি নেতা ফজলু প্রামাণিকের সঙ্গে তার বিরোধ দেখা দেয়। ভোটের পর রতন তার স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুরে চলে যায়। পরে কয়েক দিন আগে ভোটার আইডিকার্ড সংশোধনের জন্য রতন গ্রামের বাড়িতে আসে।’
সারিয়াকান্দি থানার পরিদর্শক এনায়েতুর রহমান জানান, গতকাল মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে রতনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রতন হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে লোকমান প্রামাণিক নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে জানিয়ে পরিদর্শক এনায়েতুর রহমান বলেন, ‘হামলার পরপরই জড়িতরা গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’
