মহাসড়কে ধান মাড়াই বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

আপডেট : ২২ মে ২০১৯, ১০:০৪ পিএম

জমি থেকে ধান কেটে এনে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে মহাসড়কের ওপর। পরে সড়কের কিছু জায়গা দখলে নিয়ে ‘ধান মাড়াই মেশিন’ বসিয়ে চলছে মাড়াইয়ের কাজ। আর এ অবস্থায় সড়কের অর্ধেক অংশে ধান শুকানো ছাড়াও অনেক খড় সড়কের ওপরই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখে রোদে শুকানো হচ্ছে।

ধান কাটার পর মাড়াই শেষে ধান ও খড় শুকানো হতো এসব কৃষকের বাড়ির আঙিনায়। কিন্তু এসব কাজ এখন হচ্ছে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর। ফলে এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে বাড়ছে অহরহ দুর্ঘটনা। ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন।

পার্বতীপুর-মধ্যপাড়া, পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর-দিনাজপুর, পার্বতীপুর-সৈয়দপুর ও পার্বতীপুর-রংপুর মহসড়কের প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের দুই পাশে এখন মহাধুমধামে চলছে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ। বোরো মৌসুমে মহাসড়কের পাশের বসতবাড়ির লোকজন যে যার মতো সড়ক ব্যবহার করছেন। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা বাড়ির উঠান রেখে সড়কে এ কাজটি করছেন। এ ছাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর পাকা সড়কে রান্নার কাজে ব্যবহারের লাকড়ি, ভুট্টা, মরিচ ও অন্য জিনিস শুকাচ্ছেন।

ওই মহাসড়কের হাবড়া এরশাদ নগর এলাকায় ধান মাড়াই করছিলেন কৃষক মশিউর রহমান। তিনি জানান, বাড়ির আঙিনা ছোট হওয়ায় প্রায় এক একর জমির ধান একসঙ্গে ভাঙানো যায় না। তাই সড়কটি ব্যবহার করছেন।

বাসচালক আমিনুল ইসলাম জানান, ফুলবাড়ী থেকে পার্বতীপুরে পৌঁছতে কর্তৃপক্ষ তাদের একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেন। এই সময়ের মধ্যে গন্তব্যে  পৌঁছতে হয়। অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। কিন্তু মহাসড়কটি দখলে নিয়ে ধান ও খড় শুকানোয় প্রয়োজনীয় গতিতে গাড়ি চলানো যায় না। বিশেষ করে ধানের ভেজা খড়ের ওপর দিয়ে বাস চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সময়ের অপচয় হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী শামীম আকতার জানান, সড়কে ধান শুকানোর জন্য বিভিন্ন সময় স্থানীয় কৃষকদের নিষেধ করা হলেও তারা মানছেন না। বিষয়টি নিয়ে যথাযথ মাসিক মিটিংয়ে অবহিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  রেহানুল হক বলেন, বাড়ির উঠানে ধান শুকানো নিরাপদ। রাস্তার ওপর ধান মাড়াই, ধান ও খড় শুকানোসহ খড়ের গাদা তৈরির কারণে সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এটি শিগগির বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত