দাকোপে বাঁধে ৯৫০ পরিবারের বসবাস

আপডেট : ২৫ মে ২০১৯, ১২:১০ এএম

ঘূর্ণিঝড় আইলার ১০ বছর পার হলেও খুলনার দাকোপ উপজেলার দুটি ইউনিয়নের প্রায় ৯৫০ পরিবার এখনো বসতভিটায় ফিরতে পারেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছে ওইসব পরিবারের সদস্যরা। সরকারিভাবে তাদের পুনর্বাসন না করা হলে হয়তো আর কোনোদিন ঘরে ফেরা হবে না তাদের।

বেড়িবাঁধের ওপর বসবাসকারী মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলায় উপজেলার কামারখোলা ও সুতারখালী এই দুই ইউনিয়ন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ওইদিন আইলার তাণ্ডবে মারা যায় ১৬ জন, নিখোঁজ হয় ৭ জন, আহত হয় আরও ১১ জন। নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১০ ফুটের বেশি পানি বৃদ্ধির ফলে পাউবোর ৭৫.৫০ কিলোমিটার বাঁধ ভেঙে যায়। গৃহহীন হয়ে পড়ে ওই দুই ইউনিয়নের ২৯ হাজার ৮৩২টি পরিবার।

বেড়িবাঁধে বসবাসকারীরা জানায়, আইলার পর সরকারি ও বেসরকারিভাবে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তারা নিজ গৃহে ফিরতে পারেনি। এ জন্য তারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করে। তারা জানায়, পরে অবশ্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাঁধ নির্মাণ করে দুর্গত এলাকা থেকে ২০১০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জলাবদ্ধতা নিরসন করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভিটেবাড়ি হারানো মানুষ বাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছে। এসব এলাকায় সুপেয় খাবার পানির সংকট চরমে। নেই স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। কালাবগী এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন, ‘আইলায় শিবসা নদীতে ভিটেমাটি, ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। কোনো জায়গাজমি না থাকায় বাঁধের ওপর ঝুপড়ি ঘরে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছি। সরকার নতুন করে বসবাসের জায়গা না দিলে হয়তো আর কোনো দিন ঘরে ফিরতে পারব না।’ ওই এলাকার বাসিন্দা প্রশান্ত ম-ল, শামছুজ্জামান, কামাল সরদারসহ অনেকে বলেনÑ ‘এখানে কাজ না থাকায় তাদের মতো অনেক অসহায় পরিবার জীবন জীবিকার সন্ধানে এলাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে।’

সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, বাঁধের ওপর বসবাসকারীদের জায়গাজমি না থাকায় এবং অনেকের জায়গা বাঁধের বাইরে পড়ায় ঘরে ফিরতে পারছে না। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শেখ আবদুল কাদের বলেন, কামারখোলার ১৫০ ও সুতারখালীর ৮০০ মোট ৯৫০টি পরিবার আইলায় বাড়িঘর হারিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে। জায়গাজমি না থাকায় তারা ঘরে ফিরতে পারছে না। একই কারণে তাদের সরকারি কোনো উন্নয়নের আওতায়ও আনা যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত