ঋণ না নিয়েও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ৫৪ সদস্য

আপডেট : ২৭ মে ২০১৯, ০১:১৬ এএম

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর এলাকার ৫৪ জন গরিব দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ঋণ না নিয়েও ঋণখেলাপির একটি মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন তারা। দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির মামলা যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের রজনীগন্ধা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির ২০১৩ সালে সমিতির ৬০ জন সদস্যের নামে সমবায় ব্যাংক থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন। এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। তাদের নামে ঋণখেলাপি মামলা হওয়ার পর বিষয়টি সবাই জানতে পারেন। কারও সঞ্চয়পত্রের কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে আবার কারও স্বাক্ষর জাল করেই বিরাট অঙ্কের এই ঋণের টাকা উত্তোলন করেন জহির। এ ক্ষেত্রে সমবায় ব্যাংক ও সমবায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই না করে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তারা। জহিরুলের প্রতারণায় মামলার শিকার হয়ে নিরীহ সদস্যরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এদিকে, ঋণখেলাপির মধ্যেই জহির আবারও নতুন কৌশলে ঋণ নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

সমিতির ৬০ সদস্যদের নামে তোলা ঋণে জহিরের করা গরু মোটাতাজাকরণ খামারের বিষয়েও অধিকাংশ সদস্য কিছুই জানত না। এই খামারটি তার ব্যক্তিগত খামার হিসেবে জানতেন সদস্যরা। ওই খামারে যে শেড নির্মাণ করা হয়েছিল তাতে ২০ থেকে ৩০টি গরুর বেশি ধরবে না। অথচ সেই খামারটি নির্মাণ করতেই খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। আবার জহির গরু মারা যাওয়ার দাবি করলেও তিনি সমবায় ব্যাংকের কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। ব্যাংকঋণ পরিশোধে আরও তিন বছর সময় বৃদ্ধি করলে নির্ধারিত সময়ে মাত্র ছয় জনের টাকা পরিশোধ করেন জহির। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষে ব্যাংক কর্মকর্তা জুবায়ের আহাম্মদ পঞ্চগড় আদালতে ঋণখেলাপির অভিযোগে ৫৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান। ৫৪ জনের নামে নেওয়া ২৭ লাখ টাকা সুদে আসলে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। অধিকাংশ সদস্যের নামে নেওয়া ঋণের ৫০ হাজার টাকা এখন সুদে আসলে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯১ হাজার টাকা। কোনো টাকা না নিয়েও সুদাসলে ৯১ হাজার টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সদস্যরা।

মামলার বাদী ও পঞ্চগড় সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজার জুবায়ের আহাম্মদ বলেন, যে ৫৪ জনের নামে মামলা হয়েছে ঋণের সময় তাদের প্রত্যেকের স্ট্যাম্পে ও চেকে স্বাক্ষরের পর তাদের ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এমনটা হতে পারে অনেকে না বুঝেই স্বাক্ষর করেছেন।

কমিটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহির তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ‘সবাইকে জানিয়েই ৬০ জনের নামে ঋণের টাকা নিয়ে আমরা যৌথভাবে গরু মোটাতাজাকরণ খামার করেছিলাম। সেখানে অর্ধেক গরু মারা যায়। তাই লোকসানে পড়ি।’

তেঁতুলিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে সমবায় ব্যাংক মামলা করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত