রূপপুর প্রকল্পের গ্রিন সিটির ‘বালিশ’ কেলেঙ্কারির পর এবার ঈশ্বরদীতে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান-কর্মসূচি (কর্মসৃজন) প্রকল্পের বরাদ্দের টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া শ্রমিকের তালিকা করে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকা লোপাট করা হচ্ছে ঈশ্বরদীর সাত ইউনিয়নে। কর্মপরিকল্পনায় উল্লিখিত প্রকল্পে কাজ না করে ভুয়া নামের তালিকা বানিয়ে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত দেখভাল কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতায়। লোপাটকৃত অর্থ ভাগবাটোয়ারা করা হচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য, ট্যাগ অফিসার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও প্রকল্প দেখভালকারী কর্মকর্তার মাঝে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ঈশ্বরদীতে এ প্রকল্পের ৪০ দিনের জন্য ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে। সেই বরাদ্দ উপজেলার সাত ইউনিয়নে পাঁচটি প্রকল্পে ভাগ করে দেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী পাকশী ইউনিয়নের পাঁচ প্রকল্পে প্রতিদিন কাজ করার জন্য রাখা হয়েছে ১৯৮ জন শ্রমিক। যাদের দৈনিক হাজিরা ২০০ টাকা। সেখানে প্রতিটি প্রকল্পে একজন করে সরদার থাকবে। তার হাজিরা একটু বেশি। এরকম করে সাঁড়া ইউনিয়নের পাঁচ প্রকল্পের জন্য ১৭৫ জন শ্রমিক, মুলাডুলিতে ২৭৭, দাশুড়িয়ায় ২১৮, সলিমপুরে ২৯০, সাহাপুরে ২৬৩ ও লক্ষ্মীকু-ায় ২৯২ শ্রমিকের কাজ করার কথা।
কিন্তু সরেজমিন পাকশী ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি প্রকল্পেই কাজ করছে অর্ধেকেরও কম শ্রমিক। এছাড়াও যারা কাজ করেন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারাও চলে যান।
পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান খোকন বলেন, ‘এত ছোট প্রকল্প নিয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার দরকার কী? কর্মসৃজন প্রকল্পে এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাতে তারা এই টাকা দিয়ে আনন্দ-ফুর্তি করতে পারে।’
এই প্রকল্প দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না। আপনারা (সাংবাদিক) পিআইওর সঙ্গে কথা বলেন।’ সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল করিম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ঈশ্বরদী উপজেলার কর্মসৃজন প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল সোমবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘৪০ দিনের মধ্যে ২১ দিন কাজ হয়েছে। কিছু অভিযোগ থাকায় দুই-তিন ইউনিয়নে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের টাকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। বর্তমান সময়ে ৪০০-৫০০ টাকার কমে শ্রমিক পাওয়া যায় না। তাই ২০০ টাকার বিনিময়ে কেউ কাজ করতে আসতে চায় না। যারা আসে কিছু সময় কাজ করেই চলে যায়।’
