হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের চরবগুলা ও শুল্লুকিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের দুঃখ তিনশ’ ফুট লম্বা বাঁশের সাঁকোটি। বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, অসুস্থ রোগী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়। ফসলের বোঝা নিয়ে অতি কষ্টে সাঁকো পার হন অসহায় কৃষক। সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
সাঁকোর অবস্থান উপজেলার তমরদ্দি বাজার থেকে দেড় কিলোমিটার উত্তরে তমরদ্দি ও চরকিং ইউনিয়নের সীমানায় আজমার খালের উপর। এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত এ সাঁকোটিই দুই গ্রামের ২৫ হাজার মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা।
সাঁকোর কাছে কথা হয় আজমার খালপাড়ের ব্যবসায়ী কাজল উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, লিটন, অলি উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, জামাল ও আজাদসহ অনেকের সঙ্গে। চরবগুলা ও শুল্লুকিয়া গ্রামের লোকজন সেতুটি নিয়ে তাদের দুঃখের কথা জানান।
তারা বলেন, প্রতিদিন দুই গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। সাঁকো পারাপারে শিশু ও বয়স্করা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পারাপারের অবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষায় সাঁকো পার হওয়া আরো কঠিন। তখন প্রায়ই শিশুদের বই-খাতা পানিতে পড়ে যায় বা ভিজে যায়। অনেক সময় তারা নিজেরাও পানিতে পড়ে যায়।
বাজারের সদাই, দোকানিদের মালপত্র ও কৃষি যন্ত্রপাতি পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
দোকানি গিয়াস উদ্দিন ও কাজল উদ্দিন বলেন, “এলাকাবাসীর চাঁদায় এবং স্বেচ্ছাশ্রমে প্রতিবছর সাঁকো নির্মাণ ও মেরামত করা হয়।
সত্তরোর্ধ্ব গিয়াস উদ্দিন বলেন, “চল্লিশ বছরে সাঁকো পার হতে গিয়ে শতাধিক লোক আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করে।”
চরকিং ইউপি চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহম্মদ বলেন, বহু বছর ধরে এ বাাঁশের সাঁকো দিয়েই এ এলাকার মানুষ পারাপার হচ্ছে। এখানে একটি ব্রিজ বা স্লুইস নির্মাণ অতি জরুরি।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-আলম বলেন, এ সাঁকো সম্পর্কে আমার জানা ছিলো না। সাঁকোটির জায়গায় একটি ব্রিজ নির্মাণের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
