গর্ভবতীদের করণীয়

আপডেট : ২৯ মে ২০১৯, ১২:২৬ এএম

গর্ভাবস্থা কোনো অসুস্থতা নয়। এটা নারী জীবনের একটি পর্যায়। অনেকেই গর্ভাবস্থায় রোজা রাখলে কোনো সমস্যা হতে পারে ভেবে রোজা করা থেকে বিরত থাকেন। গর্ভাবস্থায় রোজা রাখলে কোনো ধরনের সমস্যাই হয় না। সম্পূর্ণ গর্ভকালকে ৩ মাস করে ৩ ভাগে বিভক্ত করা হয়। প্রথম ৩ মাস কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ সে সময় গর্ভবতীর শারীরিক অবস্থা সবচেয়ে নাজুক থাকে। শুধু তাই নয়, বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরানো, খাওয়ায় অরুচি, ক্ষুধামন্দা, হজমে সমস্যা ইত্যাদি বিষয়গুলো বেশি লক্ষণীয়। দ্বিতীয় ৩ মাস গর্ভাবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময়। কারণ এসময় গর্ভের শিশুর ব্রেন, হার্ট, ফুসফুসসহ দেহের ভেতরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বৃদ্ধি হতে থাকে। শেষের ৩ মাসে শিশু কেবল পরিপক্ব হতে থাকে। এই সম্পূর্ণ সময়েই চিকিৎসকের নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা ছাড়া রোজা রাখতে কোনো সমস্যা নেই। তবে গর্ভাবস্থার পুষ্টি ও যতœ অন্যান্য সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। কিছু কিছু নির্দেশনা মেনে রোজা পালন করতে হবে। যেমন

          রোজা পালনকালে একজন গর্ভবতীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হাইড্রেট থাকা। তাই অবশ্যই ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত ১২-১৫ গ্লাস পানি অবশ্যই পান করুন।

          সাহরিতে জটিল শর্করা ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমনÑ ওটমিল, ব্রাউন ব্রেড ও সবজি গ্রহণ করুন। এ ধরনের খাবার ধীরে ধীরে এনার্জি প্রদান করে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য রোধেও সাহায্য করে।

          ইফতারের শুরুতে ৩-৪টা খেজুর খেয়ে পরে ফলের জুস গ্রহণ করুন। এটি আপনাকে তাৎক্ষণিকভাবে এনার্জি দেবে এবং রিহাইড্রেশনে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি দুধ, দই বা চিজ জাতীয় খাবার রাখুন।

          অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোনো খাবার বা জুস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা এ ধরনের খাবার দ্রুত ব্লাড গ্লুকোজকে বাড়িয়ে দেয়। যা পরবর্তী সময়ে আবার দ্রুত ব্লাড গ্লুকোজ কমিয়ে মাথা ঘুরানো ও জ্ঞান হারানোর আশঙ্কা বাড়ায়।

          গর্ভস্থ শিশুর গ্রোথ নিশ্চিত করতে অবশ্যই ইফতার ও সাহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমনÑ মাংস/মাছ, ডিম, শিম, ডাল, বাদাম ইত্যাদি গ্রহণ করুন।

          গর্ভকালীন প্রথম ৩ মাসে যদি অনেক বেশি পরিমাণে বমি হয় তাহলে রোজা রাখা থেকে বিরত থাকুন। কেননা অতিরিক্ত বমিতে দেহ থেকে প্রচুর পানি ক্ষয় হয়ে মারাত্মক পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। যা প্রসবকালে বার্থ ডিফেক্টের কারণ হতে পারে।

          কার্র্বোনেটেড ড্রিংকস যেমনÑ চা, কফি, কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন। এসব পানীয় দেহকে আরও বেশি ডিহাইড্রেট করে দেয়। মনে রাখুন গ্রিন টি, ডার্ক চকলেটেও ক্যাফেইন থাকে। এ ধরনের খাবারগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় যেভাবে গ্রহণ করা যায়, গর্ভাবস্থায় একেবারেই তা গ্রহণ করা উচিত নয়।

          সাহরিতে অধিক মসলাযুক্ত ও গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলুন। পরিবর্তিত খাবার হিসেবে আনসল্টেড বাদাম, কম চর্বিযুক্ত দুধ, ওটস, কলা, খেজুর, ব্রাউন ব্রেড, চিজ রাখুন।

          গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে ক্যালরির চাহিদা অনেক বেশি থাকে তাই এ সময় রোজা রাখার ব্যাপারে একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করুন। পর্যাপ্ত পুষ্টির সমন্বয়ে রোজা পালন করতে হবে।

          গর্ভাবস্থায় ডিহাইড্রেশনের অন্যতম লক্ষণ হলো মাথা ঘোরানো, মাথাব্যথা করা ও প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া। প্রস্রাবের রং যদি দুপুরের মধ্যেই হলুদ হয়ে যায় তাহলে তখন রোজা ভেঙে ফেলাই উত্তম।

          যদি কখনো গর্ভাবস্থায় ডিহাইড্রেশন হয়, তা দূর করতে ভিটামিন ও মিনারেলসযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। ভিটামিন ও মিনারেলসের চাহিদা পূরণের জন্য ভেজিটেবল ক্লিয়ার স্যুপ একটি চমৎকার ইফতারের আইটেম হতে পারে।

          ইফতারে উচ্চ ফ্যাট ও চিনিসমৃদ্ধ খাবার যেমনÑ মিঠাই, গোলাপ জামুন, বিস্কিট, কেক, ডিপ ফ্রাইড ফুডের পরিবর্তে তেলছাড়া পরোটা, আলুর তরকারি, বেক করা সমুচা গ্রহণ করুন।

          সুস্থ মা-ই জন্ম দিতে পারে সুস্থ শিশুর। অতএব গর্ভাবস্থায় সুস্থভাবে রোজা পালন করুন।

  [email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত