ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নাম প্রকাশ না করে ১৯ পদ শূন্য করার মধ্য দিয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ব্যতীত বাকি ২৯৯ জনকে বিতর্কিত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন গত কমিটির দপ্তরবিষয়ক উপসম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হলো। পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইপূর্বক উক্ত পদসমূহ পূরণ করা হবে।’ তবে পদ হারানো ওই ১৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু। তিনি বলেন, ‘যে ১৯টি পদ শূন্য করা হয়েছে তাদের নাম প্রকাশ করতে হবে। এটা কেন গোপন করা হলো। শুধু ১৯ জন নয়, কমিটিতে থাকা বাকি বিতর্কিতদেরও বহিষ্কার করতে হবে। তারা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের আকাম করবে, সেটা আমরা মেনে নেব না।’
সম্মেলনের এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ঢাবির মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাদের সঙ্গে পদপ্রাপ্তদের সংঘর্ষ বাধে; এতে আহত হন নারীনেত্রীসহ ১০-১২ জন। এরপর বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিক্ষুব্ধ নেতারা। এর দুদিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিতর্কিত ১৭ জনের নাম প্রকাশ করেন এবং তথ্যপ্রমাণসাপেক্ষ আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বহিষ্কারের ঘোষণা দেন। পরে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আশ্বাসে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান বিক্ষুব্ধ নেতারা। এরপরও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত রবিবার রাতে ফের রাজু ভাস্কর্য চত্বরে অবস্থান নেন তারা। পরদিন দুপুরে সেখানে এক সংবাদ সম্মেলন বিক্ষুব্ধ নেতারা বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ চান।
সাইফ বাবু বলেন, ‘আন্দোলনের মুখে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক প্রথমে ১৭ জনের কথা স্বীকার করলেও ১৪ দিন পর গতকাল রাতে ১৯ জনকে পদশূন্য করার কথা উল্লেখ করে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। তাদের এই পদক্ষেপ আজ প্রমাণ করল আমাদের দাবি ও আন্দোলন গুরুত্বহীন ছিল না। ১৯টি পদ শূন্য হলেও এখনো যে যার মতো স্বপদে বহাল আছেনÑ এটা সুপরিকল্পিত নয়, অপরাজনীতি, চাতুরী। এগুলো অনেক হয়েছে, অনেক সহ্য করেছি। অবিলম্বে শূন্য হওয়া ১৯ জনের নাম ও পদের বিষয়টি স্পষ্ট করুন।’ এ সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎও কামনা করেন তিনি।
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শূন্য করা ১৯ জনের নাম প্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার বলেন, ‘বিতর্কিতদের তালিকা অনেক বড়। মাত্র ১৯ জনের পদ শূন্য করে প্রহসন করা হয়েছে।’
