এবার দিনাজপুরে লিচুর ফলন ভালো হওয়ায় বেশ খুশি হয়েছিলেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ও আসন্ন ঈদের তিন দিন আগে ও পরে মহাসড়কে ট্রাক চলাচল বন্ধ ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনাজপুরের লিচু ব্যবসায়ীরা। লিচুর ভরা মৌসুমে ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকলে লিচু ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, দিনাজপুরে প্রতি বছর সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকার লিচু কেনা-বেচা হয় মৌসুমে। যা দিনাজপুরের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। সেই সঙ্গে জেলায় লিচু বাগানের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার ২৮১ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৩টি গাছ রয়েছে। জেলায় ছোট-বড় মিলে প্রায় ৩২ হাজার লিচুর বাগান রয়েছে। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন দিনাজপুর থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ লিচু রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যায় লিচু ব্যবসায়ীরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা রয়েছে। তাই দিনাজপুরের লিচু কিনে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেন ব্যবসায়ীরা।

যানবাহনের সমস্যা দেখা দিলে এবার লিচুতেও লোকসানের মুখ দেখতে হবে বলে জানালেন দিনাজপুরের কালিতলার লিচু ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “লিচু বর্তমানে পেকে গেছে। পাকা লিচু গাছে এক-দুই দিন বেশি রাখলেই নষ্ট হয়ে যায়। আবার লিচু এমন ফল যা ছিঁড়ে রাখাও যাবে না। ট্রাক চলাচল না করলে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব।”
সদরের মাসিমপুর এলাকার লিচু বাগান মালিক মো. রাজিউল ইসলাম বলেন, “শুনেছি ঈদের আগে ও পরে ট্রাক বন্ধ থাকবে। যদি ট্রাক না চলে তাহলে তো আমাদের লিচু বাগান মালিকদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। কারণ পাকা লিচু বেশিদিন গাছে রাখা যাবে না। লিচু বিক্রি না হলে আমরাই বেশি লোকসানের মুখ দেখবো।”

দিনাজপুর জেলা ট্রাক ও ট্রাকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, “আমরা তো ইউনিয়ন থেকে বন্ধ করিনি। এটা সরকার বন্ধ করেছে।” তবে পচনশীল পণ্য চলাচলে কোনো বাধা থাকবে না বলে তিনি মনে করছেন।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তৌহিদ ইকবাল বলেন, “লিচু পেকে গেলে গাছে বেশিদিন রাখা সম্ভব হয় না। আর বেশি পাকা লিচুতে একটু রোদ পড়লেই ফেটে যায়।”
