ছেলেকে ‘হত্যার’ জট খুলতে সংবাদ সম্মেলনে বাবা

আপডেট : ৩০ মে ২০১৯, ০৮:০৬ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার টেসল বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র আবু বিন রশিদকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা মো. নজরুল ইসলাম।

ছেলের মৃত্যুর জট খুলতে গিয়ে তার পরিবারের জীবন এখন শঙ্কাময় বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মাওলানা আকরাম খাঁ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার দুপুর ৩.২৮ মিনিটে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানায়, আমার ছেলে গুরুতর অসুস্থ। ওই সময় তারা আমাকে দ্রুত বিদ্যালয়ে আসার অনুরোধ জানান। এর কিছু পরেই তারা বলেন, দ্রুত হাসপাতালে চলে আসুন। আমি সপরিবারে হাসপাতালে পৌঁছে দেখি আমার সন্তান মৃত।’

নজরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘শুক্রবার আমার ছেলে একটি মোবাইল কেনে। হোস্টেলে মোবাইল ব্যবহারের নিয়ম নেই তাই মোবাইল কেনার ঠিক এক দিনের মাথায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোবাইলটি জব্দ করে। মোবাইল জব্দ করার পর আমার ছেলে কিছুটা ভীত হয়ে পড়ে এবং নিজের রুমে ফিরে যায়’।

‘শনিবার তার পরীক্ষা ছিল। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী সে ১১টা ৩০ মিনিটে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে হোস্টেলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে ১১টা ৫০ মিনিটে আর কোনো ফুটেজ নেই।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ফুটেজ না থাকার বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট জানতে চাইলে তারা বলে, কারেন্ট ছিল না। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে তারা সেদিন ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত লোডশেডিং দিয়েছিল’।  

‘‘ছেলে আবু বিন রশিদ আমাদের আব্বা-আম্মা ডাকত। অথচ তার ‘সুইসাইড নোটে’ বাবা-মা লেখা ছিল, যা আমার কাছে অসংগতিপূর্ণ মনে হয়েছে।’’

তিনি প্রশ্ন করেন, ‘কেন তার ডায়েরির পৃষ্ঠা ছেঁড়া ছিল? বিদ্যালয় ছাত্রাবাসের দুই ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজই বা গেল কই?’

ছেলে আবু বিন রশিদ হত্যার রহস্য উন্মোচন ও প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পরিবারের পক্ষে নিহতের বড় বোন নাহিদা পারভীন নুপুর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অসংগতি তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের ও প্রশাসনকে না জানিয়ে তারা মরদেহে হস্তক্ষেপ করেছে। আমার ভাইয়ের হাতের লেখার সঙ্গে সুইসাইড নোটের লেখার কোনো মিল নেই।’

নিহতের বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার আলোকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার মানববন্ধন করতে চাইলে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম আমাকে ও আমার পরিবারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে প্রচণ্ড চাপ দেন। ওই দিন রাতেই ওসি নজরুল ইসলাম বদলি হয়ে যান।’

এ ঘটনায় জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার তানভীর আরাফাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওসি মো. নজরুল ইসলাম বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আমি পাইনি। হ্যান্ড রাইটিং যাচাই-বাছাইয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। ’

মৃত্যুর কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত কারণ বের হয়ে আসবে। আমরা এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত