আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের পিটিয়ে পুকুর দখল

আপডেট : ০৮ জুন ২০১৯, ১১:৪৪ পিএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়দীঘি আদর্শ গ্রাম আশ্রয়ণ প্রকল্পের অভ্যন্তরে থাকা গড়দীঘি পুকুর স্থানীয় বাসিন্দাদের মারধর করে দখলের অভিযোগ উঠেছে। পুকুর দখলে বাধা দেওয়ায় জেলা পরিষদের সদস্য হারুন অর রশিদ মিল্টন, মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন ও তাদের লোকজনের মারধরের শিকার হয়ে আশ্রয়ণের ৯ বাসিন্দা বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনার পর থেকে ওই আশ্রয়ণের বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

জানা যায়, ২০০৪ সালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের গড়দীঘি নামক স্থানে ৫০টি পরিবার নিয়ে গড়দীঘি আদর্শ গ্রাম নামে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অভ্যন্তরে থাকা ৫ একর ৫৫ শতকের একটি পুকুর রয়েছে। ২০০৮ সালে গড়দীঘি আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতি সমবায়ের রেজিস্ট্রেশন পায়। এরপর পুকুরটি সমবায় সমিতির নামে নিবন্ধিত হয়।

আশ্রয়ণের বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুকুরটি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছিল বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য হারুন অর রশিদ মিল্টনসহ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী। তারা প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিনকে বছরে ৪ লাখ টাকা চুক্তিতে পুকুরটিতে মাছ চাষ করতে দেয়। হেলাল গত তিন বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছে। গড়দীঘি আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতির নামে নিবন্ধিত হলেও আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দারা ওই প্রভাবশালীর কবল থেকে পুকুরটি নিজেদের দখলে নিতে পারেনি। দীর্ঘদিন অবৈধভাবে তারা নিজেদের মতো করে লিজ দিয়ে প্রতি বছর ৪ লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে আসছিল। এ নিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করলেও কোনো কাজে আসেনি।

সর্বশেষ গত ৯ মে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। অভিযোগ পেয়ে ওইদিনই জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান গত ৮ মে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেবীগঞ্জ সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। গত ১৩ মে দেবীগঞ্জ সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নিলুফা ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই পুকুর উদ্ধার করে গড়দীঘি আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতিকে দখল বুঝিয়ে দেন। কিন্তু দখলদাররা তা মানছিল না।

গত ১ জুন দুপুরে মৎস্য ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের সদস্য মিল্টন, তার সহযোগী মঞ্জু, মানিক, নুরুল ইসলাম নুরুসহ ১১-১২ জন লাঠিসোটা নিয়ে ওই গড়দীঘিতে মাছের পোনা ছাড়তে যায়। এ সময় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা বাধা দিলে তাদের মারধর করে। এতে আহত নয়জনকে ভ্যানে করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার সময় বাবুরবাজার এলাকায় জেলা পরিষদের সদস্য মিল্টন নিজের বাড়িতে এক ঘণ্টা আহতদের আটকে রেখে আবার পেটায়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সদস্য হারুন অর রশিদ মিল্টন বলেন, পুকুরটি গড়দীঘি আদর্শ গ্রাম সমবায় সমিতির। তবে সমিতির সদস্যরা নিজেরা মাছ চাষ না করে আমাদেরকে লিখিতভাবে মাছ চাষ করার জন্য দিয়েছে।

দেবীগঞ্জ থানার ওসি রবিউল হাসান সরকার বলেন, ঘটনার দিন পুলিশ গিয়েছিল। আসলে তেমন বড় ঘটনা নয়। এখনো থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত