ঢাকায় ফিরতেও বেশি ভাড়া

আপডেট : ০৯ জুন ২০১৯, ১১:১৮ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি শেষে কর্মস্থল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ফিরতে শুরু করেছে হাজারো মানুষ। 

এ সুযোগে কিছু আসাধু পরিবহন ব্যবসায়ী বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

এ বিষয়ে যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুনিয়ে যাচ্ছেন ফাঁকা বুলি। 

অভিযোগ উঠার পরও তেমন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি প্রশাসনকে। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, যাত্রীরা যেন ভোগান্তিতে না পড়ে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলবেন দ্রুত।

সরেজমিনে ফরিদপুর পৌরবাস র্টামিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকাগামী সব যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকার ভেদে ঈদের অজুহাতে বাড়তি ৭০ শুরু করে সাড়ে তিন শ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। 

ফরিদপুর থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি ঘাট হয়ে ঢাকার দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার। এ পথে ফরিদপুর থেকে  ফেরি পারাপার একটি সাধারণ বাসের যাত্রী প্রতি ভাড়া নেওয়া হয় ২৬৩ টাকা। সে ভাড়া আগে থেকেই বাড়িয়ে নেয়া হতো ৩০০টাকা। ঈদ উপলক্ষে আরো ৫০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে ৩৫০টাকা করে। 

এ পথে এসি বাসে যাত্রী প্রতি ভাড়া নেয়া হয় ৪৫০ টাকা। এখন নেওয়া হচ্ছে নেওয়া হচ্ছে ৭০০টাকা।

আরএম টু (বিশেষ এসি) বাসে ভাড়া নেয়া হতো ৭০০টাকা। 

এখন ঈদ উপলক্ষে ওই বাসে ভাড়া বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা।

ফরিদপুর থেকে ঢাকায় সাধারণত গোল্ডেন লাইন, সাউথ লাইন, সূর্যমুখী, জাকের, সাউদিয়াসহ বিভিন্ন নামের বাস যাতায়ত করে। 

এর মধ্যে বাসের মান অনুযায়ী গোল্ডেন লাইন, সূর্যমূখী ও সাউথ লাইন বাসের প্রতি যাত্রীদের ঝোঁক বেশি। 

গোল্ডেন লাইন এসি বাসের ভাড়া যাত্রী প্রতি সবচেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে। এ পরিবহনে ভাড়া আরএমটুতে ৩০০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। 

জেলার বোয়ালমারী থেকে আসা রবিউল ইসলাম নামের এক যাত্রী জানান, ফরিদপুর-ঢাকা পথে সাধারণত অস্বাভাবিক হারে বাসের ভাড়া নেয়া হয়। ঢাকা থেকে ফরিদপুরের দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার। এই পথটুকুর ভাড়া কোনোভাবে ৩০০ টাকা হতে পারে না। 

আরেক যাত্রী আরিফা বেগম নামে এক যাত্রী জানান, কুষ্টিয়ার ভাড়া ১৫০ টাকার স্থলে নেয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা।
তিনি বলেন, ফরিদপুর থেকে খুলনার ভাড়া ২৫০ টাকা কিন্তু নেয়া হচ্ছে ৫০০ টাকা। এছাড়া প্রতি ব্যাগ প্রতি ১০০ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে।

ভাড়া বাড়ানোর কথা স্বীকার করে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম বাচ্চু জানান, ঈদের সময় যাত্রীদের চাপ বেশি থাকে, এছাড়া পরিবহনের শ্রমিকদের এসময় একটু বেশি টাকা ( বকশীস) দিতে হয়। ঈদের আগে ঢাকা থেকে চাপ থাকলে ফরিদপুর থেকে বাসের যাত্রী পাওয়া যায় না। অপরদিকে ঈদের পর ফরিদপুর থেকে যাত্রী পাওয়া গেলেও গাবতলী থেকে যাত্রী পাওয়া যায় না। এজন্য ভাড়া বাড়িয়ে আমাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুর বিআরটিএর উপ-পরিচালক আতিকুল রহমান জানান, ঢাকা থেকে ফরিদপুর রুটে নন এসি বাসের ভাড়া সরকার থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে ২৬৩ টাকা। 

তিনি বলেন, এসি বাসের ক্ষেত্রে সারা দেশে সরকারিভাবে ভাড়া ঠিক করে দেওয়া হয়নি। এদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক সোহেল শেখ জানান, যাত্রীরা তাদের টিকিট নিয়ে এক মাসের মধ্যে লিখিত অভিযোগ করতে পারবে। আর প্রমাণিত হলেই জরিমানা আদায় করে যাত্রীকে তার টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হবে। 

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রসঙ্গে ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সালাহউদ্দিন জানান,  ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে এ অভিযোগ পাওয়ার পর গত ৩১ মে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সব বাসের কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে দিয়ে আসা হয়েছে। 

তিনি বলেন, তারপরও ভাড়া বেশি নেওয়া হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত করা হবে। যাতে করে সাধারণ যাত্রীদের কোন ভোগান্তিতে না পরতে হয় তার সকল বিষয়ে জেলা প্রশাসন কাজ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত