দেশি-বিদেশি চক্রের সন্ধানে পুলিশ

আপডেট : ১০ জুন ২০১৯, ১২:৫৬ এএম

অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) কার্ড জালিয়াতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ইউক্রেনের ৬ নাগরিকের দেশি-বিদেশি সহযোগীদের খুঁজছে তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, ইউক্রেনের নাগরিকদের সঙ্গে বিদেশি চক্রের পাশাপাশি দেশীয় একটি শক্তিশালী চক্র জড়িত রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলে এই চক্রের বিষয়ে আরও অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ওই ৬ ইউক্রেনীয়কে আজ সোমবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও ডিবি (পূর্ব) বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহিদুর রহমান বলেন, ‘তারা এটি সম্পূর্ণ নতুন ও অভিনব পদ্ধতি প্রয়োগ করে টাকা তুলে নিত, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আরও এক বা একাধিক চক্রের যোগসাজশ থাকতে পারে। তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে অনেক অজানা বিষয় জানা যাবে।’

তদন্ত সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, তদন্তের পাশাপাশি তারা এটিএম বুথের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ অপর ব্যাংকগুলোর এটিএমবিষয়ক বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে এটিএম বুথের নিরাপত্তায় করণীয়র ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে তারা সংশ্লিষ্টদের মতামত ও সুপারিশ নেবেন।

কার্ড জালিয়াতি করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের খিলগাঁওয়ের এটিএম বুথ থেকে দুই দফা টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনায় গত ২ জুন ইউক্রেনের ৬ নাগরিককে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে পুলিশ। ৩ জুন তাদের আদালতে হাজির করে ৮ দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আরিফুর রহমান আসামিদের তাৎক্ষণিক রিমান্ডে না নিয়ে জেলহাজতে পাঠানোর আবেদন করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ৬ ইউক্রেনীয় হলোÑ দেনিস ভিতোমস্কি, নাজারি ভজনোক, ভালেনতিন সোকোলোভস্কি, সের্গেই উইক্রাইনেৎস, আলেগ শেভচুক ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এসব আসামি একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের সদস্য। তারা অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের সিস্টেম হ্যাক করে। ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের জন্য তারা বাংলাদেশে এসেছে। তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি আরও অনেকে জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, জালিয়াতির মাধ্যমে খোয়া যাওয়া টাকা উদ্ধার, জালিয়াতির পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার জন্য তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কাশেম মো. শিরিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনায় বিভিন্ন বুথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। চুরির পদ্ধতি সম্পূর্ণ অভিনব। যে কার্ড দিয়ে চুরি করা হয়, সে কার্ডের সঙ্গে আমরা পরিচিত নই। কার্ডগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় কোনো গ্রাহকের টাকা খোয়া যায়নি। এসব জালিয়াতি যাতে ফের না হয় সেজন্য ব্যাংক সতর্ক রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত