ফেনি জেলার সোনাগাজী থানা এলাকায় নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ওসি মোয়াজ্জেমের মা তাকে অপরাধী মানতে নারাজ।
আলোচিত এই ওসির আদি বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বৈডাঙ্গা গ্রামে হলেও তাদের স্থায়ী বসবাস যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকায়। তার পিতা খন্দকার আনসার উদ্দিন যশোরে বিদ্যুৎ বিভাগে চাকরি করতেন। সেই সূত্রে যশোরে বসবাস তাদের।
পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে মোয়াজ্জেম বড়। বুধবার তাদের যশোর শহরের চাঁচড়া ডালমিল এলাকার বাড়িতে গেলে কথা হয় তার মা মনোয়ারা বেগম ও ভাই কলেজ অধ্যক্ষ আরিফুজ্জামান খন্দকারের সঙ্গে।
মা মনোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলের জন্যই নুসরাত হত্যাকারীরা ধরা পড়েছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। কিন্তু আমার ছেলে জীবনে কোনো অন্যায় কাজ করেনি। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার ছেলে নিরাপদে ফিরে আসুক এটাই আমার দাবি।
ভাই আরিফুজ্জামান খন্দকার বলেন, ওয়ারেন্ট জারির পর আর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করেননি ভাই। আগে নিয়মিত কথা হতো। এখন কোথায় আছেন, কেমন আছেন জানি না।
তিনি দাবি করেন, নুসরাতের যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি ভাই প্রকাশ করেননি। অন্য একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়েছে। এই অপরাধে সাইবার ক্রাইমের মামলা দেওয়া হয়েছে। অথচ এই ভিডিওটি নুসরাতের দেওয়া বড় ডকুমেন্ট। যার মাধ্যমে ভাই অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করেছিল। যার জন্য ভাইকে পুরস্কৃত করা উচিত ছিল। সেটি না করে উল্টো মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
আরিফুজ্জামান আরো বলেন, এলাকার মানুষের কাছে খোঁজ নেন, আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। কর্মজীবনেও কোনো অপরাধের তথ্য নেই।
ওসি মোয়াজ্জেমের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী উম্মে হানি দাবি করেন, নুসরাতের শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িতদের আটক করা সহজ ছিল না। ভাই সেটি করতে পেরেছিলেন নুসরাতের বক্তব্যের ভিডিওর ভিত্তিতে। আমাদের ধারণা তিনি সেফটি ডকুমেন্ট হিসেবে ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেননি।
ওসি মোয়াজ্জেমের ছয় ভাই বোনের মধ্যে তার দুই ভাই ও একমাত্র বোন যশোরের চাঁচড়ার বাড়িতে বসবাস করেন। অপর দুই ভাইয়ের একজন সৌদি আরব এবং আর একজন আমেরিকা প্রবাসী। তার স্ত্রী সন্তানরা কেউ যশোরে থাকেন না।
এদিকে যশোর কোতয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।
