ভারতে গত ১০ দিনে লিচুর বিষক্রিয়ায় অন্তত ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে লিচুর বিষক্রিয়ার প্রভাবে মস্তিষ্কজনিত রোগে ৪৭শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য কর্মকতারা ধারণা করছেন। ।
ভারতের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আশোক কুমার বলেন, এসব শিশু মস্তিষ্ক প্রদাহে ভুগছিল। এর সঙ্গে তাদের রক্তে হঠাৎ গ্লুকোজের মাত্র কমে যায়।
একই ধরনের সমস্যায় আরো ১৭৯ শিশু আক্রান্ত বলে জানানো হয়।
একই মৌসুমে ২০১৪ সালে এ ধরনের রোগে প্রায় ১৫০ শিশুর প্রাণহানী ঘটে বলে জানা গেছে।
শ্রী কৃষ্ণ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের অফিসার এস পি সিং বলেন, আমরা শিশুদের বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
গ্রীষ্ম মৌসুমে যখন লিচু পাওয়া যায় তখন ১৯৯৫ সাল থেকে মজফফরপুর এবং আশপাশের এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র জানায় এ ধরনের মস্তিষ্ক প্রদাহের পেছনে রসালো ফলের থাকা কিছু উপাদান দায়ী।
বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামে লিচুর চাষ হয় এমন এলাকায় স্নায়ু বৈকল্যজনিত রোগ দেখা গেছে।
অশোক কুমার আরো বলেন, আন্তর্জাতিক গবেষকরা জানিয়েছেন লিচুতে এমন কিছু বিষ রয়েছে যা শিশুর লিভারে গিয়ে জমা হয়। এবং যখন তাপমাত্রা বাড়তে থাকে তখন লিভার থেকে ওই বিষ ছড়িয়ে পড়ে।
'আসলে মুজফফরপুর লিচু উৎপাদনকারী এলাকা। আমাদের অনুমান এ রোগের পেছনে লিচুর কোনোভাবে দায়ী। তবে এও সত্য যখন তাপমাত্রা কমে আসবে বা বৃষ্টি হবে তখন লিচু খেলে বা না খেলেও এ রোগ দেখা দেবে না।'
খবর এএফপি ও সিএনএন।
