ক্ষতির মুখে চুক্তিবদ্ধ ১৮০০ চাষি

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ১২:১১ এএম

গত বছর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চুক্তিবদ্ধ চাষিদের কাছ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে গমের বীজ কিনলেও এবার ৩ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ টাকা। এই দামে গমের বীজ কেনায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার চুক্তিবদ্ধ ১৮০০ গম বীজ উৎপাদনকারী চাষি। তাই গমের বীজের দাম বৃদ্ধির দাবিতে চুক্তিবদ্ধ কৃষকরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

গত বুধবার দুপুরে কৃষকরা বিএডিসি চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেন। এটি গ্রহণ করেন ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম। এ সময় কৃষকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চুক্তিবদ্ধ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি কুতুব উদ্দিন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, এবার বিএডিসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১৮০০ গম চাষি ৫ হাজার হেক্টর জমিতে গমের বীজের আবাদ করেন। এ থেকে বীজ উৎপাদন হয় ২০ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর এই চুক্তিবদ্ধ গম চাষিরা ৩৫ টাকা কেজি দরে বিএডিসির কাছে গম সরবরাহ করে। কিন্তু এবার বিএডিসি কর্র্তৃপক্ষ গমের বীজের দর নির্ধারণ করে গত বছরের চেয়ে ৩ টাকা কমে অর্থাৎ ৩২ টাকা। এতে হতাশ চাষিরা। তাই চাষিদের কাছ থেকে গত বছরের দরেই অর্থাৎ ৩৫ টাকা দামে গমের বীজ কেনার দাবি জানিয়েছেন চুক্তিবদ্ধ কৃষকরা।

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিএডিসির তিনটি বীজ উৎপাদন জোনে ১৮০০ গম বীজ চাষির কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ মেট্রিক টন গম বীজ ক্রয় করেছে। জুলাই মাসের শেষ নাগাদ কৃষকের কাছে বীজের টাকা পরিশোধ করবে বিএডিসি।

চুক্তিবদ্ধ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি কুতুব উদ্দিন বলেন, মানসম্মত বীজ প্রক্রিয়াজাত করে শতকরা ১০ ভাগ থেকে সাড়ে ১০ ভাগ আর্দ্রতায় নেয় বিএডিসি। এতে কমপক্ষে প্রতি কেজিতে ৩৪ টাকার ওপরে পড়ে যায়। তিন মাস পরে বীজের টাকা পায় চাষিরা। এতে দুই টাকা লাভ না পেয়ে যদি দুই টাকা লোকসান হয় তাহলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিএডিসি যদি দ্রুত সময়ে গম বীজের মূল্য পুনর্নির্ধারণ না করে তবে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে কৃষকরা।

চুক্তিবদ্ধ গম চাষি আল মামুন খান বলেন, বিএডিসি গত বছর চুক্তিবদ্ধ চাষিদের কাছে থেকে ৩৫ টাকা দরে বীজ কিনে বাজারে প্রত্যায়িত বীজ কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছে প্রতি কেজি ৪৬ টাকা। আর বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ চাষিদের কাছে ভিত্তি বীজ বিক্রি করেছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত