ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানাধীন দাঁতমারা ইউনিয়নের দাঁতমারা-হেঁয়াকো এলাকায় অবাধে চলছে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা। রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এসবের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। পুলিশের সামনে দিয়ে এসব অটোরিকশা চলাচল করলেও তারা না দেখার ভান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, থানা ও ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করেই এসব রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা চলাচল করছে। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে কথিত টোকেন কিংবা স্ট্যান্ড কার্ড। একই কার্ডের এপাশ ওপাশে চিহ্নকে পুঁজি করে থানার বিভিন্ন সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অননুমোদিত এসব সিএনজি অটোরিকশা।
ভূজপুর থানা পুলিশ অবশ্য অভিযোগ মানতে নারাজ। তারা বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলছে, এ ধরনের কোনো কিছু হতে পারে না। পুলিশ অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার। তবে সিএনজি অটোরিকশা চালকরা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশন করলেও পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই পুলিশকে মাসোহারা দিয়ে চলাচল করাটাই ভালো। এজন্য অটোরিকশা মালিক-চালকদের সমিতির টোকেন নিলেই হয়। টোকেন থাকলে রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি হলেও পুলিশ ছেড়ে দেয়।’
তারা জানান, রেজিস্ট্রেশন থাকলেও পুলিশ টাকার জন্য হয়রানি করে। টাকা না দিলে মামলা দেয়।
গত সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার ভূজপুর থানাধীন দাঁতমারা ইউনিয়নের দাঁতমারা, হেঁয়াকো বাজার ও বাগানবাজারে রয়েছে বড় বড় বেশ কয়েকটি সিএনজি স্ট্যান্ড। চালকদের দেওয়া তথ্যমতে এই স্ট্যান্ডগুলোতে মোট সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা ৫ শতাধিক। যার অর্ধেকেরও বেশি অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশনবিহীন। ‘বাগান বাজার অটোরিকশা সিএনজি মালিক সমবায় সমিতি’র বিশেষ টোকেনে মাসিক ৬শ থেকে ৮শ টাকা চাঁদার মাধ্যমে চলে এসব অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা।
দেখা যায়, টোকেনের এক পৃষ্ঠা জুড়ে দেওয়া আছে সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নম্বর। টোকেনে দেওয়া নম্বরে ফোন করে চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সমিতির সহ-সভাপতি ফঁজু মিয়া প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘চাঁদার সব টাকা আমরা খাই না। থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশকে ভাগ দিতে হয়।’
এ ব্যাপারে ফটিকছড়িতে দায়িত্বরত ট্রাফিক ইন্সপেক্টর প্রিয়দর্শী চাকমার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘এরকম রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিএনজি অটোরিকশা সারা দেশেই চলছে।’ রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চালানোর কোনো নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা ওদিকে যাই না। তাই অভিযান হয় না।’ ওই সমিতির মাধ্যমে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে পরে দেখা করার কথা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
