মধ্যপ্রাচ্যে ফের যাচ্ছে মার্কিন সেনা

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১১:৩৯ পিএম

ইরানের হুমকি নিয়ে উদ্বেগের অভিযোগ করে ‘আত্মরক্ষার’ অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে আবার প্রায় এক হাজার সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় সোমবার মার্কিন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্যাট্রিক শ্যানাহান এ ঘোষণা দেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগরে তেলের দুটি ট্যাংকার হামলার শিকার হওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কা অনেক বেড়ে গেছে। ওই হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করেছে ওয়াশিংটন। এর এক বছর আগে ২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের করা পরমাণু চুক্তি থেকে একতরফাভাবে সরে আসার ঘোষণার পর নিষেধাজ্ঞা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এক বিবৃতিতে শ্যানাহান বলেন, ‘ইরানের সাম্প্রতিক হামলা ইরানের বাহিনী ও তাদের হয়ে কাজ করা গোষ্ঠীগুলোর শত্রুতামূলক আচরণ নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যকে বৈধতা দেয়, যা অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও স্বার্থকে ঝুঁকিতে রেখেছে।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপকূলবর্তী সমুদ্রে গত মাসে তেলের ট্যাংকারে হামলার পর দেড় হাজার সেনা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরের মাসে ফের একই ঘোষণা দিল দেশটি। সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি আগে থেকেই ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কঠোরতর করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা সব দেশ ও কোম্পানিকে ইরানের তেল আমদানি বন্ধের নির্দেশ দেয়। অন্যথায় বৈশ্বিক অর্থব্যবস্থা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয় দেশটি।

গত সোমবার ইরান বলেছে, পরমাণু চুক্তি অনুযায়ী সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদের সীমা দ্রুতই লঙ্ঘন করবে তারা। প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানের এ সিদ্ধান্ত ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের’ শামিল।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পরও ২০১৫ সালের চুক্তিটি ইরান ও সই করা অন্য পক্ষগুলো মেনে চলছিল। এ চুক্তি অনুযায়ী ইরান ৩.৬৭ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ৩০০ কেজি পর্যন্ত মজুদ রাখতে পারে। তবে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার মুখপাত্র বেহরুজ কামালবান্দি গত সোমবার বলেন, ‘আমরা (ইউরেনিয়াম) সমৃদ্ধকরণের হার চার গুণ করেছি। এমনকি এটি সম্প্রতি বাড়িয়েছি, যার ফলে ১০ দিনের মধ্যে ৩০০ কেজির সীমা অতিক্রম করা যায়।’

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরানের মজুদ প্রতিদিনই অনেক দ্রুতগতিতে বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘(চুক্তিভুক্ত) অন্য পক্ষগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হবে।’ তেহরানের এমন উদ্যোগ রাশিয়া, ব্রিটেন, জার্মানি, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সই করা চুক্তিকে আরও হালকা করেছে। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, চুক্তি অকার্যকর হয়ে গেলে এ অঞ্চল কিংবা বিশ্বের স্বার্থ রক্ষিত হবে না।

চুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বানানো থেকে ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত বাস্তবতায় ব্রিটেন বলেছে, ইরান সীমার শর্ত লঙ্ঘন করলে ‘সম্ভাব্য সবকিছু’ ভেবে দেখবে তারা। অন্যদিকে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা বাড়ালে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে চিরশত্রু ইসরায়েল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত