যেভাবে বিকল্প হবে ক্রিপ্টোকারেন্সি

আপডেট : ১৮ জুন ২০১৯, ১১:৪১ পিএম

বিশ্ব অর্থনীতির ময়দানে ২০১৮ সাল ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে বিতর্কের বছর। বেশ কিছু দেশ ক্রিপ্টোকারেন্সিকে অবৈধ ঘোষণাও করে বছরের শেষ নাগাদ। কিন্তু চলতি বছর ক্রিপ্টোকারেন্সি আরও জোরালোভাবে পদার্পণ করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

টেক জায়ান্ট ফেইসবুক গতকাল মঙ্গলবার নিজেদের ক্রিপ্টোকারেন্সি ‘লিবরা’ উন্মোচন করেছে। ২০২০ সাল নাগাদ ফেইসবুকের যাবতীয় লেনদেন হবে এই কারেন্সিতে। এই কারেন্সিতে যেকেউ চাইলে কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই কিছু কেনা বা কাউকে অর্থ পাঠাতে পারবে। শুধু ফেইসবুক নয় পেপাল এবং ভিসা কোম্পানিও ডলারের আধিপত্যের বাইরে নিজস্ব কারেন্সি বাজারে আনছে জলদিই। লিবরার মতো কারেন্সি ব্যবহার করতে ব্যবহারকারীদের একটি সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে, যা ডিজিটাল ওয়ালেট নামে পরিচিত। ফেইসবুকের ডিজিটাল ওয়ালেটের নাম ক্যালিবরা। 

ক্যালিবরার ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়েইল এএফপিকে জানান, এ ব্যবস্থায় মানুষ তাদের অর্থ নিরাপদভাবে মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করতে পারবে। এই ওয়ালেটের সঙ্গে ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট বা ক্রেডিট কার্ড সংযুক্ত থাকবে। একইভাবে যেকেউ চাইলে ইন্টারনেট থেকে যেকোনো ডিজিটাল ওয়ালেট পছন্দ করতে পারবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, নিকট ভবিষ্যতেই প্রচলিত মুদ্রাব্যবস্থার বিকল্প হয়ে দাঁড়াবে ক্রিপ্টোকারেন্সি। কারণ মানুষ ব্যাংক-সংক্রান্ত ঝামেলা এড়াতে চায়। আর এমন প্রবণতা থেকেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে অর্থ পাঠাতে ব্যাংকের শরণাপন্ন না হয়েই হাতের মোবাইল ফোন থেকেই ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে তা করতে পারবে।

বিশ্বে বর্তমানে ১ বিলিয়নের বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার ব্যবহার করে। এই ব্যবহারকারীরা যাতে সহজে অর্থ লেনদেন করতে পারে সে বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন নতুন ডিজিটাল ওয়ালেট আসছে বাজারে। ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক ইতিমধ্যেই প্রচলিত কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা থেকে সরে এসেছে। দেশটির সব লেনদেন এখনোই ক্রিপ্টোকারেন্সিতে করা হচ্ছে।  ক্রিপ্টোকারেন্সিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে অভিবাসী শ্রমিকরা। এর ফলে নিজ দেশে অর্থ পাঠাতে আর বাড়তি কোনো চার্জ গুনতে হবে না তাদের। পাঠানো ছাড়াও ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তরের সুবিধাও থাকছে। ক্যালিবরায় রাখা হয়েছে পাসওয়ার্ড রিকভারি ব্যবস্থাসহ তিন স্তরের ভেরিফিকেশন সুবিধা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত