চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ঝুঁকি মোকাবিলা ও তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সরকার গুরুত্ব দিলেও প্রস্তাবিত বাজেটে স্মার্টফোনের ওপর শুল্কহার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে দামি মোবাইল ফোনসেটের বৈধ আমদানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন মোবাইল ফোনসেট ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সরকার রাজস্ব বাড়াতে স্মার্টফোনের ওপর শুল্ককর বাড়ানোর কথা বললেও এতে সেট চোরাচালান বেড়ে যাবে। তাতে রাজস্ব আয় বাড়ার বদলে উল্টো কমে যেতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি অর্থবছর স্মার্টফোন আমদানির ওপর ৩২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা আছে। নতুন অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৫৭ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্মার্টফোনে এত বেশি শুল্ক অন্য কোনো দেশে নেই। স্মার্টফোন তরুণরা নেহাত ফোন হিসেবে ব্যবহার করছে না। এটি অনেকে মিনি কম্পিউটার হিসেবে ব্যবহার করছে, কারও কারও ব্যবহার কম্পিউটারের চেয়েও বেশি। এ ধরনের ফোনের মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন, শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নানা সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে স্মার্টফোনে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, অপারেটরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে দেশের ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ আইফোন ব্যবহার করেন। কিন্তু আইফোন পরিবেশকরা জানান, গত পাঁচ বছরে বৈধভাবে ৩৫ হাজার সেট আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ, বাকি আইফোন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে নানাভাবে বাংলাদেশে ঢুকছে। শাওমি, হুয়াওয়ে, নকিয়া, অপোসহ অন্য ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসেটও ঢুকছে একইভাবে। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার করে পরিশোধ করা হচ্ছে অবৈধভাবে আসা ফোনসেটের মূল্য। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসা এসব মোবাইল ফোনসেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পেরে উঠছেন না উচ্চহারে শুল্ককর পরিশোধ করে বৈধভাবে আমদানি করে আনা ব্যবসায়ীরা। ফলে বৈধ আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের ব্যবসা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। উচ্চ শুল্কের কারণে ফোনের দর ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। নকল ও কপি করা স্মার্টফোন দেদার ঢুকে পড়ছে বাজারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে স্মার্টফোন উৎপাদন উৎসাহিত করতে আমদানি করা ফোনের ওপর শুল্ক বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাংলাদেশে স্মার্টফোনের কারখানা স্থাপনে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হুয়াওয়ে, অপো, ভিভো, নকিয়া, মটোরোলার অন্তত আরও দু’বছর সময় লাগবে। এই সময়ে সহজ শুল্কায়নের মাধ্যমে দেশে স্মার্টফোনের ব্যবসা সচল রাখা ও এ খাত থেকে রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে অবৈধভাবে ফোন আনা বন্ধ করা প্রয়োজন।
স্মার্টফোন সেটের একজন ব্যবসায়ী জানান, সরকার প্রথম তিন মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ শুল্কায়নের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করার পরের তিন মাস উচ্চহারে রাজস্ব আদায় করলেই স্পষ্ট হবে যে, কম হারে রাজস্ব আরোপ করলে এ খাত থেকে সরকার বেশি রাজস্ব পাবে। এক সময় সেটপ্রতি নির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের মাধ্যমে সরকার এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পেয়েছে।
