মাথার ত্বকের মৃত কোষ ও ময়লা জমে খুশকি হয়। অতিরিক্ত খুশকির ফলে স্ক্যাল্পে চুলকানির সমস্যা হয়। স্ক্যাল্প ভেজা থাকলে লালচে হয়ে যায়। তাই পরিপূর্ণ যত্ন নিয়ে খুশকি কমানো, এমনকি দূর করাও যাট বিস্তারিত জানালেন শোভন মেকওভারের শোভন সাহা
চুল ঠিকমতো ব্রাশ না করলে স্ক্যাল্পে রক্ত চলাচল ঠিকঠাক হয় না। ফলে স্ক্যাল্পের ত্বকে মরা চামড়া জমতে থাকে। স্ক্যাল্প যদি কোনো কারণে খুব শুষ্ক হয়ে যায় অথবা যাদের স্ক্যাল্প এমনিতেই খুব শুষ্ক, তাদের ক্ষেত্রে খুশকির সমস্যা বেশি হয়। শুষ্ক আবহাওয়া, বারবার তাপমাত্রার পরিবর্তন ইত্যাদিও খুশকির জন্য দায়ী। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে স্ক্যাল্পের ক্ষতি হয়। এটা ঠিক না। অতিরিক্ত শ্যাম্পু করলে স্ক্যাল্প ইরিটেটেড হয় এবং তা থেকে খুশকি হয়। কিন্তু তাই ভেবে যদি শ্যাম্পু খুব কম করা হয়, তাহলেও স্ক্যাল্পের ক্ষতি হয়। অপরিষ্কার স্ক্যাল্পে খুশকির সমস্যা বাড়ায়। খাবারে যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি ও জিংক এবং কিছু নির্দিষ্ট ফ্যাট না থাকে, তাহলেও খুশকির হতে পারে।
প্রতিকার
খুশকি নিরোধক শ্যাম্পু ব্যবহার করে যাদের খুশকি কম, সহজেই দূর করা যাবে। আর যাদের সমস্যা খুব বেশি, তাদের ক্ষেত্রে শুধু শ্যাম্পু বদলালেই হবে না। সঙ্গে চাই বাড়তি পরিচর্যা। শ্যাম্পু কেনার সময় তার উপাদানের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। জিংক, পাইরিথন, সেলেনিয়াম সালফাইড, কোলটার, কিটোকোনাজেল, স্যালিসাইলিক এসিড, টি-ট্রি অয়েল ইত্যাদি যুক্ত শ্যাম্পু খুশকি সারাতে কার্যকর। সপ্তাহে তিন-চার দিন শ্যাম্পু করলেই হবে। পার্লারে গিয়েও খুশকি কমানোর ট্রিটমেন্ট করতে পারেন। এ ছাড়া ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে মেডিকেটেড শ্যাম্পুও ব্যবহার করা যায়।
ঘরোয়া যত্ন
আধা কাপ হালকা গরম পানিতে আধা কাপ অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ হালকা হাতে স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করুন। এরপর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু করবেন না।
এক বাটি পানিতে ২ চা-চামচ মেথি মিশিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকালে পেস্ট করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রাখুন ৩০-৪৫ মিনিট। এরপর মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।
বেশ কয়েকটি নিমপাতা ৪-৫ গ্লাস পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি ছেঁকে চুল ধুয়ে নিন। চাইলে পাতাসহ পানি নিয়ে পেস্ট করে মাস্কের মতো স্ক্যাল্পে লাগিয়েও রাখতে পারেন। এক ঘণ্টা রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
৩ টেবিল চামচ লবণ শুকনো অথবা সামান্য ভিজে স্ক্যাল্পে হালকা হাতে ঘষে নিন। ২ থেকে ৩ মিনিট রেখে ভালো করে শ্যাম্পু করে নিন।
২ টেবিল চামচ লেবুর রস ভালো করে স্ক্যাল্পে লাগিয়ে এক মিনিট রেখে দিন। আলাদা বাটিতে ১ চা চামচ লেবুর রস নিয়ে এক কাপ পানি মিশিয়ে নিন তা দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। বেশ কয়েক দিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।
এক কাপ হালকা গরম পানিতে এক চা চামচ টি-ট্রি অয়েল মিশিয়ে নিয়ে স্প্রে বোতলে ভরে রেখে দিন। শ্যাম্পু করার পর পুরো স্ক্যাল্পে ভালো করে স্প্রে করে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে নিন। চুল ধোয়ার ১৫ মিনিট আগে স্ক্যাল্পে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে নিন। ১৫ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
গোসল করার আগে স্ক্যাল্পে নারকেল তেল ম্যাসাজ করুন। এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। নারকেল তেল খুশকি তাড়াতে খুব উপকারী।
রসুন থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।
বিশেষ টিপস
খুশকি তাড়াতে শরীরকেও তৈরি করে নিতে পারেন। খাবারে রাখুন ভিটামিন বি-যুক্ত খাবার, সবুজ তাজা শাকসবজি, লেটুস, ব্রকোলি, মাছ, ডিম, বাদাম ইত্যাদি। ভালো চুল এবং ত্বকের জন্য খুব ভালো।
দিনে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রোদে থাকুন। অতিরিক্ত রোদ চুল এবং ত্বকের ক্ষতি করে। কিন্তু একদম রোদ না লাগালে কিন্তু অতিরিক্ত তেল জমার সঙ্গে সঙ্গে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বেড়ে খুশকির উপদ্রব বাড়ে।
একটি শ্যাম্পু আপনার জন্য খুব ভালো কাজ করছে। কিন্তু কয়েক দিন ব্যবহারের পর আস্তে আস্তে তার প্রভাব কমে গেল। আসলে শ্যাম্পুর উপকরণগুলোর সঙ্গে আমাদের স্ক্যাল্প ধাতস্থ হয়ে গেলে তখন তা আর সে রকম এফেক্ট দেয় না। তাই প্রত্যেক মাসে বা দু-তিন মাস অন্তর শ্যাম্পু বদলে ফেলুন। শ্যাম্পু করার সময় হাতে সময় রাখুন এবং দুবার শ্যাম্পু করুন।
