অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি হয় না, তাহলে উপায়?

আপডেট : ১৯ জুন ২০১৯, ১১:১৫ পিএম

অভিজ্ঞতা ছাড়া চাকরি হয় না। তাহলে উপায় কী? বিস্তারিত লিখেছেন বিয়ন্ড ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক এবং প্রশিক্ষক সৈয়দ আখতারুজ্জামান

আগে জানা ও বোঝা দরকার কেন প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ প্রার্থী খোঁজে। মূলত ৩ কারণে প্রতিষ্ঠান অভিজ্ঞ প্রার্থী খোঁজে :

এক. পদ অনুযায়ী অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই প্রয়োজন।

দুই. অনভিজ্ঞকে দক্ষ করার মতো যথেষ্ট সময় প্রতিষ্ঠানের হাতে নেই।

তিন. দক্ষ হওয়ার পর কর্মকর্তা সামান্য বেশি বেতন পেলেই অন্যত্র স্থানান্তরিত হন। প্রতিষ্ঠানের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে।

এবার এই প্রধান কারণগুলোকে বিশ্লেষণ করলে আরও অনেক শাখা-কারণকে চিহ্নিত করা সম্ভব। যেমন : নতুন কর্মীকে যে শুধু বিভাগীয় কাজ শেখাতে হয় তাই-ই নয়, অফিস আচরণও শেখাতে হয়। অনভিজ্ঞতার কারণে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হয়। কোনো একদিন নতুন কর্মী ফলবান হয়ে উঠবে সেই প্রত্যাশায় প্রতিষ্ঠানকে এই আপাত ক্ষতি মেনে নিতে হয়, এমনি আরও অনেক। কিন্তু এত প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও একজন সদ্যপ্রস্তুত চাকরি-প্রার্থীর পক্ষে প্রাথমিক সারির পদে চাকরি পাওয়া সম্ভব। রইল মোক্ষম দশ পরামর্শ :

এক. একজন ফ্রেশ গ্রাজুয়েট আর একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র দুটো জায়গা ছাড়া আসলে বড় কোনো পার্থক্য নেই।

ক. কাজটি কী করে করতে হয় সেটি অভিজ্ঞরা জানেন। খ. অফিসে কিছুদিন কাজ করার ফলে তিনি অফিস আচরণ শিখে গেছেন। কিন্তু এছাড়া আরও অসংখ্য যোগ্যতা আছে যা চাকরি পেতে হলে নিশ্চিত করতে হয়। আপনি সেই যোগ্যতাগুলো বাছাই করুন এবং পদ ও প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় তুলে ধরুন।

দুই.  আপনার সিভি বা বায়োডাটা হতে হবে খুবই আকর্ষণীয়। সাদা, এ ফোর সাইজ কাগজে ছাপা, বড় খামে ভরে পাঠাবেন যাতে সিভিতে ভাঁজ না পড়ে। সংক্ষিপ্ত সিভি হবে। কোনো বানান ভুল বা অসত্য তথ্য থাকবে না। খামের ওপরে প্রতিষ্ঠানের নাম, যার বরাবরে পাঠালেন, যে পদের জন্য আবেদন করলেন এই সবকিছু সুন্দর করে নির্ভুলভাবে লিখুন। আপনার সিভি যেন বলে দেয় আপনি একজন চৌকস, গোছানো ও রুচিশীল মানুষ।

তিন. সিভিতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ফলাফলের পাশাপাশি অল্প শব্দে শিক্ষা জীবনের আরও কিছু তথ্য (থাকলে) যোগ করতে পারেন। যেমন আপনি হয়তো স্কলারশিপ পেয়েছিলেন, ক্লাস ক্যাপ্টেন ছিলেন, হয়তো স্কাউট ছিলেন, কিংবা উপস্থিত বক্তৃতা বা কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ইত্যাদি। উদ্দেশ্য প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো যে, আপনি দলগত কাজে অভ্যস্ত, আপনার ভেতরে নেতৃত্ব দেওয়ার চর্চা রয়েছে, আপনি সৃষ্টিশীল কাজে আগ্রহী ইত্যাদি।

চার. নির্ধারিত সময়ে ইন্টারভিউ দিতে যাবেন। দেরি করবেন না। যাতে আপনার সময় সচেতনতা প্রকাশ পায়। কথা প্রসঙ্গে সুযোগ বুঝে আপনার আগ্রহ, সময় সচেতনতা, দ্রুত শিখে ফেলার দক্ষতাগুলোর সপক্ষে কিছু বলুন।

পাঁচ. ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার পোশাক পরিচ্ছদ হতে হবে অত্যন্ত স্মার্ট ও মার্জিত। আপনার ব্যক্তিত্ব হবে ফুরফুরে, হতাশাগ্রস্ত নয়। প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনি অনুগত থাকবেন, সমস্ত শক্তি দিয়ে আপনার দায়িত্ব পালনে চেষ্টা করবেন এমনটা বোঝাতে হবে। এবং নিজে যদি সত্যিই এমনটা করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন তাহলে সেটা আপনার আচরণে ফুটে উঠবে।

ছয়. ইন্টারভিউয়ের আচরণ সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নিন। যারা অভিজ্ঞ মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক তারা আপনার আচরণ পড়তে পারেন। আপনার চোখেমুখে অভিব্যক্তিতে অনেক কিছুই লেখা থাকে। আপনি যদি সৎ ও কর্মোদ্দীপ্ত হন তাহলে সেটা আপনার চোখে ফুটে উঠবে। তাই যিনি আপনাকে প্রশ্ন করছেন উত্তর দেওয়ার সময় তার দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। ইন্টারভিউ তো আসলে নিজেকে সঠিকভাবে তুলে ধরার জায়গা।

সাত. আপনার দেহভঙ্গি বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে খুব সচেতন থাকুন। চেয়ারে বসা, কথা বলার সময় মুখভঙ্গি বা হাত নাড়া ইত্যাদি খুঁটিনাটি বিষয়ের দিকেও খেয়াল রাখবেন।

আট. সিভিতে আপনার  অন্যান্য যোগ্যতা থাকলে তাও তুলে ধরুন। যেমন : আপনি যদি আলোকচিত্রী হন, বা ছবি আঁকেন, বা অভিনয় করেন এমনকি আপনি যদি ড্রাইভিং জানেন এই যোগ্যতাগুলোর কথাও তুলে ধরুন। আপনার ভালো লাগা, পছন্দ, শখ এগুলোও উল্লেখ করতে পারেন। শুধু মনে রাখবেন, উপস্থাপন দৃষ্টিনন্দন হতে হবে।

নয়. চাকরি করা ছাড়াও আপনি অনেক প্রশিক্ষণ নিতে পারেন যা আপনাকে চাকরি পেতে সাহায্য করবে। যেমন, অনেক প্রতিষ্ঠান বিক্রয়, ভোক্তা সেবা, বিপণন, অফিস আচরণ, তথ্যপ্রযুক্তিসহ নানা বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বা দিনব্যাপী কোর্সের আয়োজন করে। এইসব কোর্সে অংশ নিন। আর সার্টিফিকেটগুলো সিভির সঙ্গে জুড়ে দিন। এই প্রশিক্ষণগুলো অসাধারণভাবে একজন নতুনকে চাকরি পেতে সাহায্য করে।

দশ. যারা শর্টকাট পথ খোঁজেন না, আসলেই দক্ষতা অর্জনের জন্য নিবিষ্ট চিত্তে পরিশ্রম করেন তারা খুব কমই চাকরিহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকেন। বিরামহীন চেষ্টা করলে আপনি সফল হবেনই। যেমন, যারা বিবিএ এমবিএ করছেন তারা সিরিয়াসলি কাজ শেখার মানসিকতা নিয়ে  ইন্টার্নশিপ করলে অনেক সময় সেই প্রতিষ্ঠানেই চাকরির সুযোগ পেয়ে যান। এমনি আরও অনেক উপায় আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত