এবার সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণ এবং ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে গত সোমবার ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী কালীগঞ্জ থানায় মামলা করলে মঙ্গলবার অভিযুক্ত যুবক আব্দুল হাই রাজুকে (২৬) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাজু কালীগঞ্জের কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজারগ্রাম রহিমপুরের শেখ রওশান আলীর ছেলে।
এর আগে গত ১২ জুন টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে দল বেঁধে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের ঘটনার ভিডিওচিত্র ধারণের অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশ বলছে, এলাকার মাতবররা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রতিবন্ধী তরুণীর পরিবার থানায় মামলা করেছে। এ ঘটনায় আনিছ (৫২) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ওই ছাত্রী মামলার এজাহারে উল্লেখ করে, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার বন্ধু কুশুলিয়া ইউনিয়নের কলিযোগা গ্রামের সিদ্দিক ঢালীর ছেলে রোকনুজ্জামান (২৫) ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। তখন অসুস্থ বন্ধুকে দেখতে গেলে রাজুর সঙ্গে পরিচয় হয় তার। পরে রাজু ওই ছাত্রীর মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী ও রাজু তাদের অসুস্থ বন্ধু রোকনুজ্জামানের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য গ্রহণ করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গত ১৪ এপ্রিল ওই ছাত্রী ঢাকা থেকে বাসে করে বাড়ি ফেরার সময় বন্ধুত্বের সুবাদে রাজু ওই ছাত্রীকে বাস থেকে নামিয়ে নলতায় তার এক বোনের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে রাজু ওই ছাত্রীকে ছুরি দেখিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে রাতভর ধর্ষণ এবং ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ভিডিও করে। ধর্ষণের ঘটনা কাউকে জানালে এর ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয় রাজু। তাই পরিবারের সম্মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে ওই ছাত্রী এসব ঘটনা কাউকে বলেনি।
কিন্তু পরে রাজু ধারণকৃত ওই ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে কয়েক দফায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং একটি দামি ল্যাপটপ হাতিয়ে নেয় বলে এজাহারে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী ছাত্রী। সর্বশেষ গত ২২ মে রাজু ওই ছাত্রীর মোবাইলে ফোন করে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে। তাই বাধ্য হয়ে বিষয়টি তার পরিবারকে জানিয়ে থানায় মামলা করে এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী।
এ প্রসঙ্গে কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আজিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে নেওয়া ল্যাপটপটি অভিযুক্ত রাজুর হেফাজত থেকে উদ্ধার করেছে। রাজুকে গতকাল (বুধবার) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
