‘নৌকাডুবি’তে দায়ীদের দ্রুত শাস্তি চায় তৃণমূল

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ০২:২৮ এএম

উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিপক্ষে দলের যেসব নেতা কাজ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ছিল শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। গত এপ্রিলে কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় নেওয়া এই সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর না হওয়ায় দলটির তৃণমূলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পাঁচ ধাপের উপজেলা নির্বাচন শেষ হয়েছে গত ১৮ জুন। শেষ ধাপের এই নির্বাচনে ৯টিতে নৌকার বিপক্ষের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি আগে থেকে ব্যবস্থা নিতে থাকলে এই অবস্থা হতো না। তৃণমূলের ওই নেতারা আরও বলেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে কেন্দ্রের নমনীয় মনোভাব দলের শৃঙ্খলা যেমন নষ্ট করেছে, তেমনি তৃণমূলে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করেছে। গত মার্চে উপজেলা নির্বাচনের শুরুতেই নৌকার বিরোধিতাকারীদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে তাদের লাগাম টেনে ধরা যেত। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের গড়িমসিকে দায়ী করে তৃণমূলের এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলের যেসব নেতা অবস্থান নিয়েছেন তাদের দ্রুত বিচার আমরা চাই।’

তৃণমূলের ওই নেতারা আরও বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করলেও অজানা কারণে বারবার ইস্যুটি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। তৃণমূলের আরেক নেতার দাবি, দলের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দলে ‘ব্যক্তির পকেটে’ ঢুকে যাওয়ার যে রেওয়াজ চলছে তা বন্ধ হবে। বিরোধিতাকারীদের বহিষ্কার না করার কারণে দল দিন দিন ‘ব্যক্তির পকেটে’ চলে যাচ্ছে। বহিষ্কার করলে আওয়ামী লীগ আরও শক্তিশালী হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহামেদ মোল্লা দেশ রূপান্তরকে বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি। তিনি বলেন, দলে যে ট্রেন্ড চালু হয়েছে প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের আরেক প্রার্থী দাঁড়িয়ে যাবেÑ এর থেকে দলকে বের করে আনতে হলে কেন্দ্রকে আরও কঠোর হতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে দল ব্যক্তির পকেটে ঢুকে যাবে।

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথম নৌকার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের ভোট করার বাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে প্রথমেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ধারাবাহিকভাবে বিরোধিতা করার যে প্রথা চালু হয়েছে তা বন্ধ হয়ে যেত। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নমনীয় হওয়া ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, দলে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ আমি মনে করি, সারা দেশে যারা আওয়ামী রাজনীতি করেন তারা সবাই চান দ্রুত নৌকার বিরোধিতার বিচার হোক।

পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট দেশ রূপান্তরকে বলেন, সারা দেশে উপজেলা নির্বাচনে যারা নৌকার প্রার্থীদের হারিয়েছেন তারা শুধু দলের বিরুদ্ধেই যাননি, তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের বাইরেও গিয়েছেন। কারণ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই তাদের মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চাই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলের যেসব নেতার অবস্থান ছিল তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে দল সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী হবে। আর যারা বিভিন্ন দল থেকে এসে আওয়ামী লীগে ভিড়েছেন তারা ভয়ে থাকবেন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার আক্ষেপ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামী লীগ এখন আর নেই। আওয়ামী লীগ এখন ত্যাগে নয়, ভোগে বিশ্বাসী হয়ে গেছে। এটা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের। এভাবে দল চলতে থাকলে পরিণতি কী তা আমরা জানি না। নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করা আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আরও আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কেন যে তাদের ব্যাপারে নমনীয় মনোভাব দেখানো হচ্ছে বুঝে উঠতে পারছি না। ডাবলু সরকার বলেন, এমন কঠোর শাস্তি নৌকার বিরোধিতাকারীদের দেওয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ বিদ্রোহের সাহস দেখাতে না পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত