শরীয়তপুর সদর উপজেলায় কুকুর পালা নিয়ে বিরোধের জের ধরে শুকুমার মণ্ডল (৫৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রিকে মাথায় দা ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করা হয় । পরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে আহত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শুকুমার উপজেলার পালং ইউনিয়নের পাটুনিগাঁও গ্রামের মৃত ক্ষেত্রমোহন মণ্ডলের ছেলে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে চন্দন মণ্ডল ও ভাতিজা বিশ্বজিৎ মণ্ডল অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে শুকুমারকে পিটিয়ে জখম করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে ফাঁসি দাবি জানান তারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুকুমার ও প্রতিবেশী জয়দেবের মধ্যে কুকুর পালা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকায় বটগাছের নিচে জয়দেব, সনাতন, চঞ্চল, কালু, যাদব, অনাথসহ আরও ২/৩ জন মিলে শুকুমারকে একা পেয়ে দা ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
শুকুমারের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করেন। ওই দিন রাতে ঢাকা মেডিকেল থেকে চিকিৎসকরা তাকে মহাখালী আয়শা মেমোরিয়াল হসপিটালে প্রেরণ করেন। সেখানে শুকুমার আইসিইউতে ভর্তি ছিল। পরে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মুগদা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালে প্রেরণ করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শুকুমারের মৃত্যু হয়। শুক্রবার বিকেলে হসপিটাল থেকে শুকুমারের মরদেহ শরীয়তপুরের আনা হয়।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ মণ্ডল বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ৬ জনকে আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি সনাতন মণ্ডলকে বৃহস্পতিবার রাতে গোপালগঞ্জের সাতপার এলাকা থেকে আটক করা হয়। এর আগে ঘটনার পরদিন আসামি অনাথ মণ্ডলকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
