ব্যাট-স্টাম্পে ভাগ্যবদল

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ১০:২৪ পিএম

দুই যুগেরও বেশি আগে ১৯৯৪ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুরের বেকার যুবক ওমর ফারুক কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন রাজধানী ঢাকায়। কাজ পেয়েছিলেন স্টেডিয়াম এলাকার এক খেলার সামগ্রী বিক্রেতার কারখানায়। কোনো বেতন পেতেন না, শুধু পেটে-ভাতে চুক্তিতে কাজ শিখেছিলেন সেখানে। ৬ বছরের মতো কাজ করার পর নিজেই কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে গ্রামে ফেরেন ওমর ফারুক, যেখানে এলাকার মানুষ কাজের সুযোগ পাবে। এমন স্বপ্ন থেকে নিজ এলাকায় বছর দশেক আগে ক্রিকেট ব্যাট ও স্টাম্প তৈরির কারখানা স্থাপন করেন তিনি। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ওমর ফারুককে।  

কানাইপুর বাজারের সিনেমা হল পট্টিতে ওমর ফারুকের কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, বিরামহীনভাবে ঘুরছে যান্ত্রিক মোটরের চাকা। আর সেখানেই নানা ধরনের কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ক্রিকেট খেলার অন্যতম অনুষঙ্গ ব্যাট ও স্টাম্প। কারখানার ৭-৮ জন শ্রমিকের কেউ কেউ যন্ত্রে নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী কাঠ কাটছেন, কেউবা আবার ওই কাঠ দিয়ে তৈরি করছেন ব্যাট ও স্টাম্প। আর সব কাজ তদারকি করছেন কারখানার মূল উদ্যোক্তা ওমর ফারুক। কাজের ফাঁকে কথা হয় তার সঙ্গে।

ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রথম দিকে ব্যাট-স্টাম্প তৈরির পর তা বিক্রির জন্য নিজেই জেলা ও জেলার বাইরের বিভিন্ন দোকানে ছুটে যেতেন। নিজের তৈরি এসব সামগ্রী বিক্রির জন্য দোকানমালিকদের কাছে ধরনা দিতে হতো তাকে। কিন্তু সেই দিন আজ পাল্টেছে, বিক্রির জন্য এখন আর তাকে ছুটতে হয় না এক জেলা থেকে অন্য জেলাতে। এখন নিজের কারখানাতে বসেই অর্ডার পাচ্ছেন। আর চলতি ক্রিকেট বিশ্বকাপ মৌসুমে চাহিদার পরিমাণ বেড়েছে কয়েক গুণ। এমনকি দিন-রাত ৭-৮ জন শ্রমিক মিলে কাজ করেও চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ দিতে পারছেন না।

ওমর ফারুক জানান, তার কারখানায় তৈরি ব্যাট কাঠের মান অনুযায়ী প্রকারভেদে প্রতিটি বিক্রি হয় ১২০ থেকে ২৮০ টাকায়। আর প্রতি ১০০ পিস স্টাম্প বিক্রি হয় ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে। ওমর ফারুক বলেন, এখন তার একটাই স্বপ্নÑ সুযোগ পেলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য তৈরি করবেন এক সেট ব্যাট ও স্টাম্প।

কানাইপুরের একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওমর ফারুক আমাদের যুবসমাজের জন্য উৎকৃষ্ট উদাহরণ। কারণ সে দারিদ্র্যকে জয় করে নিজে এবং তার প্রতিষ্ঠানের অন্যদেরকেও স্বাবলম্বী করেছে। সে যাতে আরও এগিয়ে যেতে পারে এজন্য সরকারের উচিত তাকে পৃষ্ঠপোষকতা করা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত