জন্ম থেকে জ্বলছে

আপডেট : ২১ জুন ২০১৯, ১১:০১ পিএম

ঝড়ো বৃষ্টি, তুষার এমনকি তীব্র বাতাসেও নেভে না এই আগুন। চার হাজারেরও বেশি সময় ধরে দশ মিটার এলাকায় এই আগুন জ্বলছে। আজারবাইজানের অ্যাবশেরন উপদ্বীপাঞ্চলের পাহাড়ি ঢালে এই আগুনের উৎস। স্থানীয়রা আগুনের এই এলাকাকে ‘ইয়ানার দাগ’ নামে ডাকে।

আজারবাইজানে অন্য অনেক দেশের তুলনায় প্রাকৃতিক গ্যাসের পরিমাণ বেশি। প্রায়ই দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে খনিজ গ্যাস মাটি ফেটে বের হয়। ইয়ানার দাগ এমনই একটি জায়গা, যেখানে গত চার বছর ধরে মাটির নিচের গ্যাস পুড়ছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ এই আগুন দেখতে আসে।

বিখ্যাত পরিব্রাজক মার্কো পোলোর দিনপঞ্জিতে এই আগুনকে রহস্যময় বলে আখ্যা দেওয়া হয়। ১৩ শতকের দিকে আজারবাইজানের অ্যাবশেরন অঞ্চলটি ছিল চীনের বাণিজ্যিক সিল্ক রুটের মধ্যে। ফলে এই রুট দিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী ও পরিব্রাজকরা তখন থেকেই এই আগুনের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন।

আজারবাইজানে একটা সময় এমন আগুন জ্বলতে থাকা স্থানের সংখ্যা একাধিক ছিল। তাই তো তখন আজারবাইজানকে ‘আগুনের ভূমি’ বলা হতো। কিন্তু আধুনিক সময়ে শিল্প ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের ব্যবহারের কারণে ভূগর্ভস্থ গ্যাসের চাপ কিছুটা কমায় অনেক স্থানের আগুন নিভে গেছে। কিন্তু ইয়ানার দাগের আগুন এখনো জ্বলছে।

প্রাচীন জরাথ্রুস্টের আমলে এই গোটা অঞ্চলটি ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের অংশ। জরাথ্রুস্ট মতাবলম্বীদের কাছে আগুন হলো মানুষ এবং আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যবর্তী যোগসূত্র। আগুনের মাধ্যমেই আধ্যাত্মিক জগতের জ্ঞান পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস ছিল তাদের। আজও অনেকে ইয়ানার দাগে যান স্রেফ ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে।

দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় বাকু শহরের আতেসগা আগুন মন্দিরে গেলে কথিত রহস্যময় আগুনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিশ্বাসের ভিত্তি পাওয়া যায়। বাকুর স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ‘প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বিশ্বাস করে, এখানে ঈশ্বর বাস করেন। ১৭ এবং ১৮ শতকের সময় ভারতীয় হিন্দু সেটেলাররা এই মন্দির তৈরি করে।’ তবে দশম শতকের আগে থেকেই ওই অঞ্চলে অগ্নি-উপাসনা প্রচলিত আছে এমন তথ্য পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথিতে। তবে মন্দিরের ভেতরের সেই আগুন আজ আর নেই। শুধু দর্শনার্থীদের জন্য সরকারি খরচে আগুনের ব্যবস্থা করা হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত