বিপিসির নিজস্ব ভবন নির্মাণ শুরু শিগগিরই

আপডেট : ২২ জুন ২০১৯, ০১:২৪ এএম

বিপুল পরিমাণ নিজস্ব জমি অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও দীর্ঘ ৪২ বছর ধরে ভাড়া অফিসে চলছে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহ নিশ্চিত রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কার্যক্রম। নিজস্ব অফিস ভবন নির্মাণে প্রায় দেড় যুগ আগে পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বিপিসি বলছে, শিগগিরই নগরীর জয়পাহাড়ে নিজস্ব ভবন নির্মাণ প্রকল্প শুরু হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ১৯৭৭ সালে বিপিসির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে ভাড়া অফিসেই চলছে যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ। বর্তমানে মাসে ৩ লাখ টাকা ভাড়ায় বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ভবনের একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। এর জন্য প্রতি বছর ব্যয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। অথচ চট্টগ্রাম নগরীতেই রয়েছে বিপিসির বিপুল পরিমাণ জমি। জয়পাহাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকা এ জমির পরিমাণ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ একর।

সূত্র জানায়, প্রায় দেড় যুগ আগে ১৯৯৯ সালে নিজস্ব ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় বিপিসি। কিন্তু নানা জটিলতায় তা হয়নি। পরে ২০১১ সালে ‘কনস্ট্রাকশন অব বিপিসি হেড অফিস বিল্ডিং অ্যাট চিটাগং’ শিরোনামে এ প্রকল্পের কাজ শুরুর কথা ছিল। সেটিও পিছিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ থেকে ’১৯ সালের মধ্যে তা সম্পন্ন করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু পরামর্শক নিয়োগসহ অন্যান্য কাজে অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২১ সালের মধ্যে এ প্রকল্প শেষ করার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের মাস্টারপ্ল্যান তৈরির জন্য পরামর্শক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। এরই মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছে। এদের মধ্যে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা আগামী মাসের প্রথম দিকে চূড়ান্ত করা হবে।

বিপিসি পরিচালক (অর্থ) মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। আগামী ২ জুলাই তা চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরামর্শক দেওয়া হবে। তিনি জানান, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জয়পাহাড়ে বিপিসির পুরো জমি নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করবে। সেখানে মূল ভবনসহ ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক, ড্রেনেজ সিস্টেম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, ডরমেটরি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের যাবতীয় নকশা ও পরিকল্পনা থাকবে। এর ভিত্তিতে ডিটেইল প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ডিপিপি অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত